০৩:১২ পি.এম
ভারত আবারও ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে। প্রশ্নফাঁস এবং নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ঝাড়খণ্ডে টানা ১৭ দিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। সোমবার যখন আন্দোলনকারীরা রাজ্য বিধানসভা ঘেরাও করতে যাবেন, তখন রাঁচিতে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে তারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। তবে জলকামানের সামনেও অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। সেসময় তাদের নাচতে দেখা যায়।
এই আন্দোলনের কারণ কী?
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে ডাম্পট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৫
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ রয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। এ কারণে তারা নিয়োগ পরীক্ষার নিয়মে সংস্কারসহ নানা দাবিতে আন্দোলন করে চলেছেন। আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছেন।
রাঁচিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর সমাবেশ
সোমবার সকালে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রেন, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে হাজারো শিক্ষার্থী রাঁচিতে জড়ো হন। এরপর তারা মিছিল নিয়ে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিমুখে এগিয়ে যান। ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহতো আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে শিক্ষার্থীদের।
ব্যারিকেড দিয়ে শিক্ষার্থীদের ঠেকানোর চেষ্টা
আরও পড়ুন: সানার কাছে সৌদি জোটের বিমান হামলায় নিহত ৩৩, আহত ৩৯
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাঁচির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ব্যারিকেড স্থাপন করে প্রশাসন। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। রাঁচির বেশিরভাগ স্কুলও সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে শহরে প্রবেশের বিভিন্ন পথে বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শিক্ষার্থীদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের বাইরেও প্রধান বিরোধী দল বিজেপি বিক্ষোভ করেছে।
সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ
আন্দোলনকারীদের শান্ত করতে সরকার একাধিক বৈঠক করলেও এখনও সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। সরকারের দাবি, তারা শিক্ষার্থীদের ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নিয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ১৩টি পরীক্ষার মধ্যে মাত্র তিনটি বাতিল করতে চেয়েছে সরকার। সিবিআই তদন্তের দাবিতে জেসিএসসি ও জেপিএসসির দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও তারা অনঢ় রয়েছেন।
আরও পড়ুন: ঢাকা বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচে, লাহোরের পর স্থান
আন্দোলনকারীদের পক্ষে রবীন্দ্র পাসওয়ান জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বর্তমানে ছয়জন আন্দোলনকারী অনশনে রয়েছেন।
জেপিএসসিতে রদবদল
দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে গত রবিবার ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের তিন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। সিআইডির সমন জারির পরে তাদের পদত্যাগের ঘটনা ঘটে। এর আগে ২২ জুলাই জেপিএসসির চেয়ারম্যান এল খিয়াংতে পদত্যাগ করেন। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ‘জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব অনুসরণ করেই বাংলাদেশ পুনর্গঠন করতে হবে’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন