০২:১৪ পি.এম
বিশ্বকাপসহ নিজেদের প্রধান ফুটবল প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন একটি কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা করছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এই বিতর্কিত পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা। এবার এই বয়কটের তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরও ৪১টি দেশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উয়েফাভুক্ত ৫৫টি সদস্য দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম বিবিসি ও দ্য অ্যাথলেটিকের সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
যদিও উয়েফার সদস্য দেশগুলোর মতো বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি, তবে মধ্য ও উত্তর আমেরিকান ফুটবল সংস্থার (কনকাকাফ) ৪১টি দেশ এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে।
আরও পড়ুন: রেলে ডিউটি কার্ড জালিয়াতি, কোটি টাকার টিকিট কালোবাজারে বিক্রি
এক বিবৃতিতে কনকাকাফ জানিয়েছে, বৈঠকের সময় সদস্যরা প্রস্তাবটি নিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ার ঘাটতি, চাপিয়ে দেওয়া কৃত্রিমভাবে সংক্ষিপ্ত সময়সীমা এবং ফিফার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দ্বারা যেকোনো পর্যালোচনার বা অনুমোদনের অযৌক্তিকতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
‘এছাড়াও ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক ফিফা বিশ্বকাপের পর নতুন এবং বিদ্যমান ফিফা ফরোয়ার্ড কর্মসূচিতে অর্থায়নের জন্য প্রাইভেট ইক্যুইটি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা মাথায় এনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।’
বিবৃতিতে এটি আরও বলেছে যে, এই আলোচনাটি আরও স্বচ্ছতা ও সঠিক শাসনের প্রয়োজনীয়তাকে পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই সমস্ত কারণে কনকাকাফ এবং এর ৪১টি সদস্য সংস্থা... প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ফিফা ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। উক্ত প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটার্নালের নেতৃত্বে আছেন জশুয়া কুশনার, যিনি সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
আরও পড়ুন: রোনালদোর অবসরের ঘোষণায় মরিনিয়োর প্রতিক্রিয়া: ‘এখনো অনেক লক্ষ্য বাকি’
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো সদস্যদেশগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছেন যে, পরিকল্পনাটি অনুমোদন পেলে ২০২৭-৩১ চক্রে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির অনুদান ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলারে নেওয়া হবে। সেইসাথে এককালীন আরও ২ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে সমর্থনকারী সদস্যদের। তবে প্রস্তাবটি পাস না হলে অনুদান দাঁড়াবে ১ কোটি ডলারে, অর্থাৎ প্রতিটি সদস্যদেশ ৩ কোটি ডলার কম পাবে।
ফিফার ২১১ সদস্যদেশের ভোটে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর এই প্রস্তাবের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। অনুমোদনের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ফিফা কাউন্সিলের সমর্থন প্রয়োজন। তাই ইউরোপের পাশাপাশি অন্যান্য কনফেডারেশনগুলোর সমর্থন পাওয়া এখন উয়েফার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মুহূর্তে কনকাকাফের বর্তমান প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত তাদের আরও শক্তিশালী করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন