ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অপহরণ-চাঁদাবাজি: এনসিপির যুব শক্তি নেতাসহ পাঁচজন কারাগারে


অপহরণ-চাঁদাবাজি: এনসিপির যুব শক্তি নেতাসহ পাঁচজন কারাগারে

দিনাজপুরে একজন কৃষককে অপহরণ করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে এনসিপির অঙ্গসংগঠন যুবশক্তির কেন্দ্রীয় এক নেতাসহ পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে তাদের দিনাজপুর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে, সোমবার সন্ধ্যায় দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ এলাকা থেকে একটি সাদা প্রাইভেটকারসহ তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— জাতীয় যুব নাগরিক শক্তির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন (২৯), সংগঠনের নেতা হাসিন ইশরাক মিম (২২), আজমির হোসেন (২২), সমজিদুল মিনহাজ (২১) এবং হৃদয় হোসেন (২২)।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের খোশালপুর পুকুরপাড়া এলাকার কৃষক আব্দুস সামাদকে গত রবিবার রাতে শহরের গোপালগঞ্জ পাঁচমাইল এলাকা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে মারধর করে পরিবারের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন (৩৬) কোতোয়ালি থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সোমবার বিকেলে গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ এলাকা থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে। পরে আটক ব্যক্তিদের থানায় নেয়ার সময় তাদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগে আরও দুজনকে আটক করা হয়। পরে, সোমবার রাতে মামুন বাদী হয়ে গ্রেফতার পাঁচজনসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা করেন।

আটকের পর এনসিপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা থানার ভেতর থেকে আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাত পর্যন্ত দিনাজপুর সদর থানা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। এ সময় পুলিশের পাশে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন ছাত্রদল ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি নূরনবী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার পাঁচজনকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, মামলায় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো ছেড়ে গেলে কী হবে, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৩ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো ছেড়ে গেলে কী হবে, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট (ন্যাটো) থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতামত বলছে, এমন পরিস্থিতিতে ন্যাটো পুরোপুরি ভেঙে পড়বে না। বরং, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতৃত্বে জোটটি টিকে থাকতে পারে। তবে এই পরিবর্তনের জন্য ব্যয় অত্যন্ত বেশি এবং এটি দীর্ঘমেয়াদি হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক দশক ধরে ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, সামরিক অনুসন্ধান (ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রিকনেসান্স), স্যাটেলাইটভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ, সামরিক রসদ সরবরাহ এবং সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অপরিহার্য।

বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, যদি যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো থেকে সরে যায়, তাহলে ইউরোপের জন্য তার সামরিক সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করতে অন্তত এক দশক বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রতিস্থাপন করতে প্রায় এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে।

এছাড়া, ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্প দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে এখনও হিমশিম খাচ্ছে। অনেক ইউরোপীয় দেশ তাদের সশস্ত্র বাহিনীতে নতুন সদস্য নিয়োগ এবং বিদ্যমান সদস্যদের ধরে রাখার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। এই কারণে একটি স্বল্প সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শূন্যতা পূরণ করা ইউরোপের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়াও ন্যাটো টিকে থাকার সক্ষমতা রয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলো চাইলে নিজেদের নেতৃত্বে জোটের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। তবে এতে প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করতে হবে।

এই কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রস্থান ন্যাটোর অস্তিত্বের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে ইউরোপের সামরিক প্রস্তুতি, প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর।

যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে একাধিকবার ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং জোটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তবুও তিনি ইচ্ছা করলেই একক সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে বের করে নিতে পারবেন না।

মার্কিন আইনে আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটো থেকে বের হতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন অথবা কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে এমন অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান-উভয় দলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আইনপ্রণেতা এখনও ন্যাটোর প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে আসছেন।

ফলে, ট্রাম্প ন্যাটো নিয়ে কঠোর অবস্থান নিলেও অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-নেপাল সহযোগিতা জোরদারে রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৫ পি.এম


বাংলাদেশ-নেপাল সহযোগিতা জোরদারে রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

নেপালের জাতীয় পরিকল্পনা কমিশনের ভাইস-চেয়ারম্যান গুনাকর ভট্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।

মঙ্গলবার গুনাকর ভট্টের অফিসে তাদের মধ্যে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এসময়, সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

উভয় পক্ষের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সংযোগ বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ জোরদার করার মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোচনা করা হয়।

এছাড়া, উভয় দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক অন্যান্য ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার বিভিন্ন উপায় এবং সম্ভাবনার কথাও আলোচনা করা হয়।

সাক্ষাতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয় যে বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি থেকে সুষ্ঠু উত্তরণ নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-নেপাল দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বকে আরও গভীরতর করার এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুষ্টিয়ায় ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি, আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ পি.এম


কুষ্টিয়ায় ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি, আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার

চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই একটি ট্রেনের যাত্রাবিরতি হবে- রেলওয়ের কর্মকর্তাদের এমন আশ্বাসে বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী স্টেশনে রেল অবরোধের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন আন্দোলনকারীরা।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে রেলের বিভাগীয় কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে দুপুরে তারা এ কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

বৈঠকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার, পাকশী রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আবু হেনা মোস্তফা ও বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা হাসিনা খাতুন, কুমারখালী পৌর বিএনপির সভাপতি মনোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জিলাল, জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী কে এম আর শাহিন, কুমারখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার লিপু আমীর, আন্দোলন পরিচালনাকারী ও কেন্দ্রীয় যুব অধিকার পরিষদের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শাকিল আহমেদ তিয়াসসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আন্দোলনকারীরা জানায়, কুমারখালী রেলস্টেশনে আন্তঃনগর সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির জন্য প্রায় ৮ মাস ধরে আন্দোলন চলছে। সবশেষ গত ১১ মে স্টেশন চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলার সময়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে ট্রেন থামানোর আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ৫৭ দিন পার হলেও প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল পায়নি এলাকাবাসী।

আন্দোলন পরিচালনাকারী শাকিল আহমেদ তিয়াস বলেন, এর আগে প্রশাসনের কর্মকর্তারা যাত্রাবিরতির আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি। সেজন্য বৃহস্পতিবার অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ (মঙ্গলবার) স্বয়ং রেল কর্মকর্তারা বৈঠক করে চলতি মাসের (জুলাই) মধ্যে ট্রেন থামানোর কথা দিয়েছেন। সেজন্য আপাতত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে জুলাইয়ে ট্রেন না থামলে আগস্টের এক তারিখ থেকে কঠোর আন্দোলন শুরু হবে।

বেনাপোল ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার। তিনি বলেন, বারবার আশ্বাসের পরও প্রশাসনিক কিছু জটিলতায় যাত্রাবিরতি সম্ভব হয়নি। আজ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। আশ্বাস নয়, চলতি মাসের মধ্যেই ট্রেন থামবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেন সংঘাতের ব্যর্থতা ঢাকতে ‘ন্যাটোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ তত্ত্বে জোর রাশিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ পি.এম


ইউক্রেন সংঘাতের ব্যর্থতা ঢাকতে ‘ন্যাটোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ তত্ত্বে জোর রাশিয়ার

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি অজ্ঞাত স্থানে রাশিয়ার যৌথ বাহিনীর একটি কমান্ড পোস্ট পরিদর্শন করেন।

ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জনে ব্যর্থতার মধ্যেই যুদ্ধকে ‘ইউক্রেনের বিরুদ্ধে বিশেষ সামরিক অভিযান’ নয়, বরং ‘ন্যাটোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ হিসেবে তুলে ধরার প্রচার জোরদার করেছে রাশিয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘায়িত যুদ্ধ, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ এবং সামরিক ক্ষয়ক্ষতির ব্যাখ্যা দিতেই ক্রেমলিন নতুন এই বয়ানকে সামনে আনছে।

সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভের এক বৈঠকের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে গেরাসিমভ দাবি করেন, ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে সফল হতে না পেরে পশ্চিমা মিত্রদের বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে উদ্যোগ ফিরে পেয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

জবাবে পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোর যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট ভূমিকা বিশ্লেষণ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই বিশ্লেষণ কাজে লাগতে পারে।

যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার সঙ্গে রুশ দাবির অসঙ্গতি নিয়ে ভিডিওতে পুতিন দাবি করেন, রুশ বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের কস্তিয়ান্তিনিভকা শহর পুরোপুরি দখল করেছে। তবে ইউক্রেন জানিয়েছে, শহরের একটি অংশ এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এমনকি পুতিনকে সেখানে সাক্ষাৎ করে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বানও জানান।

পুতিন আরও দাবি করেন, চলতি বছরে রাশিয়া ইউক্রেনে তিন হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা দখল করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার-এর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত রাশিয়ার প্রকৃত অগ্রগতি ছিল মাত্র ৯৭ বর্গকিলোমিটার।

প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতির পরিবর্তে রাশিয়া একটি বিকল্প বাস্তবতা তৈরি করার চেষ্টা করছে, যেখানে সামরিক সাফল্যের বর্ণনা নিয়ন্ত্রণ করে জনমত প্রভাবিত করা হচ্ছে।

‘বিশেষ অভিযান’ থেকে ‘ন্যাটোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ শীর্ষক মন্তব্যে ইউক্রেনের সাবেক উপ-চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইহোর রোমানেঙ্কোর মতে, ক্রেমলিনের মূল লক্ষ্য রুশ জনগণকে বোঝানো যে, এটি আর শুধুমাত্র ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অভিযান নয়, বরং ন্যাটোর সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ।

তিনি বলেন, ২০২২ সালে কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা বলা ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ এখন পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। এ বাস্তবতা ব্যাখ্যা করতেই রাশিয়া যুদ্ধকে ন্যাটোর বিরুদ্ধে সংঘাত হিসেবে উপস্থাপন করছে।

তার ভাষায়, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ এবং ভবিষ্যতে আরও সামরিক তৎপরতা বা নতুন সেনা সমাবেশের প্রয়োজনীয়তা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতেই এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

নতুন সেনা সমাবেশের ইঙ্গিত সম্পর্কিত বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে ক্রেমলিন আগামী সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট নির্বাচন শেষে আংশিক সেনা সমাবেশ (মোবিলাইজেশন) ঘোষণা করতে পারে।

রোমানেঙ্কো বলেন, নির্বাচনের পর অন্তত আংশিক সেনা সমাবেশের প্রস্তুতি চলছে এবং সেই লক্ষ্যেই যুদ্ধের বয়ান বদলানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে রাশিয়া প্রথম ‘আংশিক মোবিলাইজেশন’ ঘোষণা করেছিল। পরে সরকার বড় অঙ্কের আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং অভিবাসীদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার নীতি গ্রহণ করে।

‘যুদ্ধ’ শব্দের ব্যবহার পুতিনের বক্তব্যের একদিন পর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ প্রকাশ্যে ‘যুদ্ধ’ শব্দটি ব্যবহার করেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ায় এই সংঘাতকে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ ছাড়া অন্য কিছু বলা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ ছিল এবং ‘যুদ্ধ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগে হাজারো মানুষকে জরিমানা, গ্রেফতার ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

পেসকভ বলেন, “এটি এখন সত্যিকারের যুদ্ধ। কারণ কিয়েভের পেছনে বার্লিন, প্যারিস, দ্য Hague, অসলো এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওয়াশিংটনও রয়েছে।”

প্রচারণার উদ্দেশ্য কী? কিয়েভভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভলোদিমির ফেসেনকোর মতে, রাশিয়া যখনই যুদ্ধক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে, কিংবা নিজ ভূখণ্ডে ইউক্রেনের হামলা বাড়ে, তখনই ক্রেমলিন জনগণের সামনে নতুন ব্যাখ্যা হাজির করে।

তিনি বলেন, “ক্রেমলিন কখনওই স্বীকার করতে চায় না যে, ইউক্রেন সামরিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বরং তারা দেখাতে চায় যে, পুরো পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে। এভাবেই চার বছরের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলার ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে।”

ন্যাটোকে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর অভিযোগ সম্পর্কিত রাশিয়ার অন্যতম প্রচারমূলক অবস্থান হলো- ন্যাটো ধীরে ধীরে ইউক্রেনকে নিজেদের সামরিক কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করছে।

মস্কোর দাবি, ন্যাটো উন্নত প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অস্ত্র সরবরাহ করে ইউক্রেনকে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে হামলার সক্ষমতা দিচ্ছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে ন্যাটোকে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সশস্ত্র সংঘাতে টেনে আনতে চাইছে।

তবে ইউক্রেনীয় সেনাসদস্যরা এসব দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের সাফল্যকে খাটো করে দেখাতেই ক্রেমলিন পুরো সংঘাতকে ‘সমষ্টিগত পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ হিসেবে তুলে ধরছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%