আবুল কাশেম রুমন, সিলেট প্রতিনিধি
১১:০১ এম
বিএনপির প্রয়াদ চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে সিলেটের পুরাতন জেলের জায়গায় নির্মাণ হবে সিলেটের বিনোদন কেন্দ্র পার্ক হিসেবে। সম্প্রতি সিলেট নগরে একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমনটি জানিয়েছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেট শহরে হাঁটার জায়গা নেই। নগরবাসীর হাঁটাচলার সুবিধার্থে আমরা সিলেট নগরের পুরনো কারাগারের জায়গায় একটি আধুনিক ও বিশ্বমানের পার্ক নির্মাণ করবো। এই পার্কটিকে আমরা আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে নামকরণ করবো।
মন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সাথে আমেদের সবার আবেগের সম্পর্ক। তিনি এই দল ও দেশকে প্রচুর দিয়েছেন। সিলেট তার খুব প্রিয় জায়গা। তিনি তার সব বড় কাজ সিলেট থেকে শুরু করতেন। আমার ইচ্ছা এই পার্কটি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে নামকরণ করবো।
পার্ক নির্মাণ কাজের শুরু প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পুরনো কারাগারটি সিটি করর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে তার আগে তারা কিছুটা সময় নিয়েছেন, একটি মেট্রোপলিটন কারাগার নির্মাণের জন্য। বাদাঘাটে নতুন কারাগারের পাশে আরেকটি কারাগার হবে। এজন্য জায়গা অধিগ্রহণ কাজ শুরু হবে। নতুন কারাগার নির্মাণের পরপরই আমরা পুরনো কারাগারের জায়গায় পার্ক নির্মাণেল কাজ শুরু করবো।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬ইং) দুপুরে সিলেটে ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
এসময় সিলেটকে আরও বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
এছাড়া কিনব্রিজের পাশে একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। যাচাইয়ের ফলাফল পাওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ২০২৮ সালের মধ্যে এসব প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ চিত্র দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন তিলারগাতী এলাকায় চাঁদা না পেয়ে কারখানার শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মামুনের ছেলে নাঈম ও তার সঙ্গে থাকা একদল কিশোরের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে টঙ্গী পশ্চিম থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এলাকায় চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জের রাজনৈতিক পরিবেশ বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের আগাম হাওয়ায় সরগরম হয়ে উঠেছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টিতে ভোটের আমেজ স্পষ্ট। যদিও নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তথাপি সম্ভাব্য প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে।
এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য চেয়ারম্যান এবং মেম্বার পদপ্রার্থীরা নিজেদের এলাকায় প্রার্থিতা জানান দিতে এবং অবস্থান শক্ত করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সভা, উঠান বৈঠক, মতবিনিময়, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা এবং গণসংযোগের কাজ চলছে দিন-রাত। পাশাপাশি, হাট-বাজারে চা-চক্র এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে জনসমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা।
এদিকে, নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। হাট-বাজারের চায়ের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লার আড্ডায় এখন একটাই আলোচনা- কে হচ্ছেন আগামী দিনে ইউনিয়নের অভিভাবক।
এবার প্রার্থী নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা আগের চেয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে চান। তাঁদের বক্তব্য, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং বিপদে-আপদে যাকেই সব সময় পাশে পাওয়া যাবে, তাঁকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করা হবে। তবে ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, সরকারি দলের সমর্থন পাওয়া প্রার্থীই মূলত ইউনিয়ন পরিষদের দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন।
তফসিল ঘোষণার আগেই বাকেরগঞ্জের ইউনিয়নগুলোতে যে নির্বাচনী হাওয়া দেখা যাচ্ছে, তা স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা অনুযায়ী, আগামী নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল আবারও রান্নাবিষয়ক জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। ২০২৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার শিশু-কিশোরদের রান্নার প্রতিযোগিতা ‘জুনিয়র মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া’র নতুন মৌসুমে তিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। অনুষ্ঠানে তাঁর সাথে থাকবেন উপস্থাপক ও রাঁধুনি পোহ লিং ইয়ো।
চ্যানেল টেনের ঘোষণার ভিত্তিতে জানা গেছে, ‘জুনিয়র মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া’ ছয় বছর বিরতির পর ফিরছে। নতুন মৌসুমে খুদে প্রতিযোগীদের রান্নার দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও প্রতিভা প্রদর্শনের পাশাপাশি তাদের উৎসাহিত করার দায়িত্ব পালন করবেন মেগান। ২০২৭ সালে মেলবোর্নে অনুষ্ঠানের শুটিং অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে, ২০২৬ সালের এপ্রিলে অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় ‘মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া’র মূল অনুষ্ঠানে অতিথি বিচারক হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন মেগান। তাঁর সেই উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ওই পর্বটি ২০২৩ সালের পর অনুষ্ঠানটির সর্বোচ্চ রোববারের দর্শকসংখ্যা অর্জন করেছিল।
নতুন অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মেগান। তিনি জানান, নিজের সন্তানদের সঙ্গে রান্না করতে ভালোবাসেন এবং ছোট ছোট প্রতিযোগীদের রান্নাঘরে কী তৈরি করে, তা দেখা তাঁর জন্য আনন্দের হবে। এ কারণেই প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি সহজেই রাজি হয়ে যান।
অন্যদিকে, পোহ লিং ইয়োও মেগানের সাথে আবার কাজ করার সুযোগ পেয়ে আনন্দিত। তাঁর মতে, নতুন মৌসুমে শিশু প্রতিযোগীদের কাছ থেকে মজার ও চমকপ্রদ রান্নার প্রত্যাশা রয়েছে। নতুন আয়োজনের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিভাবান রাঁধুনিদের সামনে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারত ও চীনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার মধ্যে সীমান্ত নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধান শত্রুজিৎ সিং কাপুরের বক্তব্য অনুযায়ী, অরুণাচল প্রদেশের বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে চীনা সেনারা ভারতের দাবিকৃত ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার ভেতরে তাঁবু স্থাপন করেছে। এই মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) মহাপরিচালক কাপুর সম্প্রতি রাজস্থানে এক অনুষ্ঠানে বলেন, অরুণাচল প্রদেশের কিছু স্থানে ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে এসব ঘটনার সূচনা হয়। প্রথমে উভয় পক্ষ সরে গেলেও কয়েক দিন পর চীনা সেনারা আরও বেশি সংখ্যায় ফিরে আসে এবং ভারতের দৃষ্টিতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার প্রায় ছয় থেকে সাত কিলোমিটার ভেতরে তাঁবু স্থাপন করে।
কাপুরের এই মন্তব্যের পর ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলটির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার চীনের কাছে ছাড় দিচ্ছে। তবে কাপুরের বক্তব্যের বিষয়ে ভারত সরকার স্পষ্টভাবে কোনো অস্বীকৃতি জানায়নি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, চীনা সেনারা প্রতিষ্ঠিত টহল দেওয়ার নিয়ম থেকে সরে গেলে সীমান্ত পরিস্থিতি বিঘ্নিত হয়। তিনি জানান, অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানে দুই দেশ সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বেইজিং দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি মেনে চলছে এবং নিজেদের ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্তে স্বাভাবিক টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে কয়েক দশক ধরে বিরোধ চলমান রয়েছে। সীমান্তের বড় অংশের সুনির্দিষ্ট সীমানা এখনো নির্ধারিত হয়নি। চীন অরুণাচল প্রদেশকে দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলে দাবি করে, যা ভারত প্রত্যাখ্যান করে রাজ্যটিকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন ভারতীয় ও চারজন চীনা সেনা নিহত হন। ওই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের বড় ধরনের অবনতি ঘটে। তবে কয়েক দফা আলোচনার পর ২০২৪ সালে সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছায়।
এরপর সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু এবং ভিসাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারত সফর করেন। সাত বছরের মধ্যে এটিই ছিল তাঁর প্রথম ভারত সফর। এসব উদ্যোগ সম্পর্কের উন্নতির আশা তৈরি করলেও সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতি সেই অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শ্যাম শরণ বিবিসিকে বলেন, অরুণাচল সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে চীনের এ ধরনের তৎপরতা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। তাঁর মতে, এসব পদক্ষেপ সরাসরি যুদ্ধ বাধানোর মতো না হলেও সীমান্তে নতুন বাস্তবতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে।
সীমান্ত বিরোধের পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর তাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৫১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে চীন থেকে ভারতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩১ বিলিয়ন ডলার। যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি, বিরল মৃত্তিকা চুম্বক ও ওষুধশিল্পের পণ্যের জন্য ভারত চীনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দুই দেশের উত্তেজনা ভারতের শিল্প ও অবকাঠামো খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও বিরোধের প্রভাব অনুভব করছেন। অরুণাচল টাইমসের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক টোঙ্গাম রিনা বিবিসিকে বলেন, চীনের অনুপ্রবেশ ও দখলদারির কারণে সীমান্তের কিছু এলাকার গ্রামবাসী চারণভূমিতে যেতে পারছেন না। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন ভারতের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে না চাইলেও দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত বিরোধ থেকে কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও প্রমাণ করে যে, কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি মানেই সীমান্তে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত হওয়া নয়। তথ্যসূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ