০৬:০৪ পি.এম
বাংলাদেশে মার্কিন উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন, যাতে তারা আরও বেশি বিনিয়োগ করেন।
তিনি বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করছে, নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
শনিবার ঢাকায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ইবি ইউট্যাবের শ্রদ্ধা নিবেদন
মাহদী আমিন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বেসরকারি খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিনিয়োগ সহজতর করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সুশাসন এবং আইনের শাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিচিত্র অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ কর্মশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির কারণে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, বিনিয়োগ পরিবেশকে আরো উন্নত করার জন্য মুনাফা দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ সহজ করা, উদার অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্পপার্ক ও হাইটেক পার্কে কর–সুবিধাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অতীতে অসম প্রতিযোগিতা নিয়ে থাকা উদ্বেগ দূর করার জন্য সরকার দেশি-বিদেশি সব বিনিয়োগকারীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে: শামা ওবায়েদ
মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, তারা প্রযুক্তি ও দক্ষতা স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
তিনি বলেন, উড়োজাহাজ, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), বস্ত্র, ওষুধ, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি এবং ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতসহ দুই দেশের সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
মাহদী আমিন আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন, যাতে ‘ব্রেইন ড্রেইন’কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করা সম্ভব হয়।
তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্পর্কিত রোডশো আয়োজন এবং নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা খুঁজে বের করার জন্য সরকারি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: জামালগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাহদী আমিন, এবং বলেন যে, বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের সফলতা বিশ্বের অন্যান্য বিনিয়োগকারীদেরও এখানে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখার জন্য অ্যামচেম এবং ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন