১০:১৮ এম
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরোনো গবেষণা মাঠে নতুন সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তারা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার এবং সেখানে বাণিজ্য মেলার কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানান।
এ সময়, শিক্ষার্থীরা মাঠে চলমান মাটি পরীক্ষার কাজ বন্ধ করে সরঞ্জাম ও নমুনাবাহী দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পাশাপাশি, গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাগানো সাইনবোর্ড উপড়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে নিয়ে যান তারা।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, মিলবে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা
বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকাস্ট্যান্ড থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে পুরোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অবস্থান নিয়ে তারা মাটি পরীক্ষার কাজ বন্ধ করে দেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, গবেষণা মাঠটি ফিরিয়ে না দেওয়ার কারণে ব্যবহারিক শিক্ষা ও উচ্চতর কৃষি গবেষণা ব্যাহত হচ্ছে। তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া সেখানে কোনো বহিরাগত কার্যক্রম বা নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না। মাঠ পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এদিন জমি উদ্ধার ও সুরক্ষার দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন শিক্ষার্থীরা। স্মারকলিপিতে আগামী তিন দিনের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে মাঠটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠ হিসেবে ঘোষণা এবং জমি উদ্ধারে হাইকোর্টে রিট করার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. আশিক আহমদ বলেন, "চোখের সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, অথচ প্রশাসনের কোনো হেলদোল নেই। আমরা প্রশাসনকে তিন দিনের সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে সিন্ডিকেট সভা ডেকে জোরালো আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিতে হবে এবং ওই জায়গা যে আমাদের, তা নিশ্চিত করতে হবে।"
আরও পড়ুন: ঢাবির অমর একুশে হলে ১০ শিক্ষার্থী পেলেন প্রভোস্ট অ্যাওয়ার্ড
স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ওয়াসিউল হাসান সরকার জানান, আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা স্নাতকোত্তরের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন। দাবি বাস্তবায়নে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, "বাণিজ্য মেলার মাঠ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কমিটি রয়েছে। রিটের বিষয়ে কমিটি এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তাদের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যে কমিটির সঙ্গে বসার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে, মেলা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, "গণপূর্ত অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই মেলার কাজ চলছে।" তার দাবি, মেলার প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং নিয়ম মেনেই অর্থ ব্যয় ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ অক্টোবর গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। একই দিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। ২০১৫ সালেও পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। পরে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
আরও পড়ুন: চুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম ৩৬ দিন পর আংশিক শুরু, আন্দোলন অব্যাহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন