০৭:০২ পি.এম
প্রস্তাবিত বাজেটে এভিয়েশন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা। বরাদ্দের এই পরিমাণ চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৫৭১ কোটি টাকা কম। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বরাদ্দকে এভিয়েশন খাতের উন্নয়নের জন্য কার্যকর এবং বাস্তবসম্মত হিসেবে মনে করা হচ্ছে না। তারা বলছেন, পর্যটন ও এভিয়েশন খাত নিয়ে কার্যকর ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব এখানে সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে কেন্দ্র করে এখন নানা মহলে বিশ্লেষণ চলছে। যদিও বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ বেড়েছে, তবুও এভিয়েশন খাতে তা তুলনামূলকভাবে কম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৮ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তব্যে জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাবে উন্নীত করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি জাতীয় এয়ার কানেক্টিভিটি গ্রিড গড়ে তোলার এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লজিস্টিকস ও যাত্রী হাবে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: আইনমন্ত্রী
তবে এভিয়েশন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ নিয়ে খাত সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলছেন। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট থেকে মাত্র ৫৮৪ কোটি টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ আগের বছরের তুলনায় মোট বরাদ্দ কমেছে ৫৭১ কোটি টাকা। ক্রমাগতভাবে এ খাতে বরাদ্দ কমায় পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম বলেছেন, যদি সরকার অবকাঠামোগত সুবিধা ও কর ব্যবস্থা নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়, তবে বাংলাদেশের জিডিপিতে এভিয়েশন খাতের অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ বলেছেন, লক্ষ্য নির্ধারণের অভাবের কারণে কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে না। আগামী পাঁচ বছরে ট্যুরিজম খাতকে কোথায় নিতে চায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকলে এই খাতের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে, এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে আন্তঃবিমানবন্দর যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব না দিলে এভিয়েশন হাবের লক্ষ্য শুধুমাত্র কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: রাজধানীর পান্থপথ, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্টে ককটেল বিস্ফোরণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব-উর-রহমান বলেছেন, পর্যটনকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে এখনও কিছু ঘাটতি রয়েছে। পর্যটন ব্যবস্থাপনায় আরও সুসংগঠিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেছেন, এভিয়েশন খাত শুধু পরিবহন নয়, এটি ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও কর্মসংস্থানের জন্য একটি বৃহৎ ক্ষেত্র। এয়ারলাইন্সগুলোকে টিকিয়ে রাখতে বাজেট থেকে সহায়তা প্রয়োজন।
অংশীজনদের মতে, নীরব কর্মসংস্থান তৈরি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম এভিয়েশন খাত গড়ে তোলার জন্য এ খাতে বরাদ্দকে আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা আবশ্যক।
আরও পড়ুন: সরকার ৬৪ জেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন