০৮:৩৫ পি.এম
দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনার পর অবশেষে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারিত নতুন নামগুলো অনুমোদন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের পর নতুন নামগুলো কার্যকর হবে।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে রেজুলেশন পাস করা হয়েছে।
নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিবগঞ্জ উপজেলার মীরবাড়ি ইউনিয়নের নতুন নাম হবে বেতগাড়ী ইউনিয়ন। একইসঙ্গে নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে করা হয়েছে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন এবং দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে রহবল ইউনিয়ন। তবে, স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়নের নাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজার সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আশেক উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান
জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেছেন, সমন্বয় সভায় তিনটি ইউনিয়নের নতুন নাম অনুমোদন করা হয়েছে। এখন বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন নাম কার্যকর হবে।
এর আগে, গত ১৪ জুন প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার জন্য চারটির নতুন ইউনিয়নের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। সেগুলো ছিল মীরবাড়ি, সীমান্ত, দিগন্ত ও স্বর্ণগ্রাম।
এর মধ্যে মীরবাড়ি নামটি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছিল। পাশাপাশি সীমান্ত ও দিগন্ত নাম দুটি তার দুই ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সঙ্গে মিল থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছিল। বিষয়টি জাতীয় পর্যায়েও আলোচনায় আসে। পরে জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করা হলে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নামগুলোর মিলকে কাকতালীয় বলে দাবি করেন।
বিতর্কের পর প্রশাসন জানিয়েছে, স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে নাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে, এ দাবিকে ঘিরেও প্রশ্ন ওঠে। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন করে গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক জিসান নিহত, আহত ৪
প্রসঙ্গত, ২৩ জুন মীরবাড়ি, সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ২৫ জুন দিগন্ত ইউনিয়নের নতুন নাম চূড়ান্ত করতে দ্বিতীয় দফায় আরেকটি গণশুনানি করা হয়েছিল। সেখান থেকে পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতেই তিন ইউনিয়নের নতুন নাম অনুমোদন করেছে জেলা প্রশাসন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন