প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র ৩৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ছিলেন তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক। বাংলাদেশের কবিতায় এই অবিস্মরণীয় কবির শিল্পমগ্ন উচ্চারণ তাকে সত্তরের অন্যতম কবি-স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৯৯১ সালের ২১ জুন, মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর দীর্ঘ ৩৩ বছর পরে ২০২৪ সালে কবি একুশে পদকে ভূষিত হন।
আজকের দিনটির স্মরণে রুদ্র স্মৃতি সংসদ কবির গ্রামের বাড়ি মোংলার মিঠাখালিতে সকাল ৯টায় শোভাযাত্রা সহকারে সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে। পরে সকাল ১০টায় মিঠাখালী রুদ্রের বাড়িতে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। স্মরণসভা শেষে রুদ্রের কবিতা ও গান পরিবেশিত হয়।
অকাল প্রয়াত এই কবি তার কাব্যযাত্রার মধ্য দিয়ে যুগপৎ দ্রোহ ও প্রেম, স্বপ্ন ও সংগ্রামের শিল্পভাষ্য ধারণ করেছেন। ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন’ - এই নির্মম সত্য অবলোকনের পাশাপাশি আরও স্পর্ধায় তিনি উচ্চারণ করেন ‘ভুল মানুষের কাছে নতজানু নই’। যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে তার অনমনীয় অবস্থান তাকে পরিণত করেছে ‘তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীক’-এ। একই সঙ্গে, তার কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের মগ্নতা। দেশ ও জাতির সংকটে রুদ্রের কবিতা হয়ে উঠেছে তারুণ্যের হাতিয়ার।
মাত্র ৩৫ বছরের (১৯৫৬-১৯৯১) জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থের পাশাপাশি গল্প, কাব্যনাট্য এবং ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ সহ অর্ধশতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। পরবর্তীকালে, এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন। ‘উপদ্রুত উপকূল’ ও ‘ফিরে চাই স্বর্নগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য ‘সংস্কৃতি সংসদ’ থেকে পরপর দু’বছর ‘মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরষ্কার’ অর্জন করেন। তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেন।
এছাড়া, মাত্র ৩৫ বছরের নাতিদীর্ঘ জীবনসীমায় রুদ্র রচনা করেন সাতটি কাব্যগ্রন্থ - ‘উপদ্রুত উপকূল’ (১৯৭৯), ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ (১৯৮১), ‘মানুষের মানচিত্র’ (১৯৮৪), ‘ছোবল’ (১৯৮৭), ‘গল্প’ (১৯৮৭), ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’ (১৯৮৮) এবং ‘মৌলিক মুখোশ’ (১৯৯০)। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী পরিস্থিতিকে অবলম্বন করে তিনি ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ নামে একটি কাব্যনাট্যও রচনা করেন। তিনি বেশ কিছু গল্পও লিখেছেন।
তার রচিত ও সুরারোপিত ‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানটি দুই বাংলায় অসাধারণভাবে জনপ্রিয়। ১৯৮৭ সালে তসলিমা নাসরীনের সাথে বিচ্ছেদের পর মোংলায় বসে তিনি এই গানটি রচনা ও সুরারোপন করেন। পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন