প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমানা এলাকায় ১৫টি গ্রামের নিম্নভাগ প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে কৃষিজমি, মাছের ঘের ও বিভিন্ন শাকসবজির জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বানের পানি প্রবেশ করার ফলে নিচের এলাকায় বসবাসকারীরা নিজেদের বাড়িঘর ত্যাগ করে স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলার সময় তারা জানিয়েছেন, ২৪ আগস্ট সোমবার ভোররাত থেকে আচমকাই ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, উপজেলার হাওড়া নদী, জাজির খাল এবং কালন্দী খাল দিয়ে দ্রুত পানি প্রবেশ করা শুরু করে। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলশ্রুতিতে আখাউড়া স্থলবন্দর এলাকার ব্যবসায়ীদের অফিস এবং আশেপাশের বাড়িগুলোতে পানি প্রবেশ করেছে। নির্মলাঞ্চলের ফসলের জমি ও মাছের ঘের পানির তলে চলে গেছে।
এদিকে আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের আনোয়ারপুর, হিরাপুর, আব্দুল্লাহপুর, ধলেশ্বর, বঙ্গের চর, বাউতলা, বীরচন্দ্রপুর, সাহেব নগর, উমেদপুর ও বাউতলা এলাকার নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে। একইভাবে আখাউড়া পৌর এলাকার নারায়নপুর, তারাগন, ধাতুর পহেলা সহ বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। তাছাড়া, মোগড়া ইউনিয়নের কর্নেল বাজার এবং মনিয়ন্দ ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলও পানির নিচে চলে গেছে।
পানি প্রবেশ করায় বাড়িঘরে বসবাসকারী পরিবারগুলো অন্যত্র আশ্রয় গ্রহণ করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা জানিয়েছেন, যদি পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে, তাহলে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে এবং দুর্ভোগের মাত্রা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।
বীরচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক মনু মিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ধানের জমি পানির নিচে চলে গেছে। যদি পানি আরও বাড়তে থাকে, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতিসাধন হবে। এজন্য কৃষকদের সহায়তার জন্য সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন।
এদিকে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া জানিয়েছেন, ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩২টি পরিবার পানি বন্দি রয়েছে এবং বর্তমানে ১৪ শত হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে রয়েছে।
তবে দুপুরের পর থেকে পানির কমতে থাকায় সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন