০৬:০৪ এম
আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষা সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নও সব বোর্ডে অভিন্ন থাকবে। এমনকি কোনো দুর্যোগের সময় হলে যাতে তা মোকাবিলা করার জন্য জরুরি ব্যবস্থা থাকবে সেটিও তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো বোর্ড বলে একটু নমনীয় প্রশ্ন করে, কোনো বোর্ড কঠিন প্রশ্ন করে। এক বাংলাদেশে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ভিন্ন প্রশ্নে হতে পারে না।’ এক্ষেত্রে তিনি একই প্রশ্নপত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইংরেজি মাধ্যমের ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল পরীক্ষা নেওয়ার তথ্য তুলে ধরেন।
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মাধ্যমিক স্তরের ভর্তি কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন আনছে সরকার। লটারিভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি বাতিল করে নতুন ব্যবস্থায় ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও পরীক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আসলে এই ভর্তি পরীক্ষাটা হবে একটি নামমাত্র পরীক্ষা। এর জন্য কোচিং সেন্টারে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমাদের পরিকল্পনা হলো ক্যাচমেন্ট এরিয়া এবং নামমাত্র পরীক্ষার সমন্বয়ে সকল শিক্ষার্থীকে ভর্তির আওতায় নিয়ে আসা।
আরও পড়ুন: মাদকচক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলা
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সব সমস্যার সমাধান হয়নি এবং হবেও না। কিন্তু তাদের পে স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করতে কাজ চলছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবারের এসএসসি পরীক্ষা সবার সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। ফল প্রকাশ করা হবে ২০ জুলাই।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সেশনজট কমিয়ে আনতে সিলেবাস শেষ হওয়ার পরপরই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে এক বছর আগেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখা যাক, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি এবং এইচএসসি ঐ বছরের ৬ জুন শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত্ হোসেন। তার সেই বক্তব্য প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক। এ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফি নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
আসন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক ও বালিকা) এবং ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠেয় ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’-এর চূড়ান্ত অনুষ্ঠানের তথ্য জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে নতুন বিষয় চালু করার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ শ্রেণিতে ‘স্পোর্টস’ এবং ‘কালচার’ নামে দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষা এবং ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন’ নামে আরো দুটি নতুন বিষয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু সনদনির্ভর না রেখে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিকতা, সৃজনশীলতা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও কর্মমুখী দক্ষতাভিত্তিক করার লক্ষ্যে সরকারের ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যেখানে সমতা, ন্যায্যতা এবং সুযোগের সমবণ্টন নিশ্চিত হবে। শহর ও গ্রামের শিক্ষার মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে এনে দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য সমান মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
আরও পড়ুন: বাকৃবির শাহজালাল হলে ‘শাহী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২.০’-এর উদ্বোধন
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্যালকুলেটর ও হাতঘড়ি ব্যবহার নিয়ে নতুন নির্দেশনা আসছে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্যালকুলেটর ও হাতঘড়ি ব্যবহার নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় সাধারণ ক্যালকুলেটরসহ নির্ধারিত আটটি মডেলের সায়েন্টিফিক নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। এছাড়া ব্যবহার করা যাবে নন-প্রোগ্রামেবল কাঁটাযুক্ত হাতঘড়ি। বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নির্ধারিত মডেলগুলো হলো এফএক্স-৮২এমএস, এফএক্স-১০০এমএস, এফএক্স-৫৭০এমএস, এফএক্স-৯৯১এমএস, এফএক্স-৯৯১ইএস, এফএক্স-৯৯১ইএক্স, এফএক্স-৯৯১ইএস প্লাস, এফএক্স-৯৯১সিডব্লিউ। এসব মডেলের ক্যালকুলেটর ছাড়াও শিক্ষার্থীরা সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন