১০:২৪ পি.এম
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। যিনি একইসঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইসলামাবাদের অবিচল সমর্থন ও সংহতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বার্তায় শাহবাজ শরিফ জানান, সৌদির ওপর চালানো এই ন্যক্কারজনক হামলা দেশটির সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার চরম লঙ্ঘন। এ ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে আরও বিপন্ন করে তুলতে পারে। সংকটকালীন এই মুহূর্তে ভ্রাতৃপ্রতিম সৌদি আরবের পাশে পাকিস্তান সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। অঞ্চলটির শান্তি, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বজায় রাখতে ইসলামাবাদ সবসময় যেকোনো আন্তরিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক বিদ্যমান, যা ইসলামাবাদের আঞ্চলিক কূটনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। বিশেষ করে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রিয়াদে দুই দেশের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির মূল শর্ত ছিল—যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা উভয়ের ওপর আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করা হবে। এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় গত সোমবার ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে সৌদির পাশে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। সেখানে পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা রক্ষা, ইয়েমেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুতদের জন্য সউদীর ২৩২টি বাড়ি, স্কুল, মসজিদ ও খেলাধুলার সুযোগ
নিরাপত্তা পরিষদের ওই ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত উসমান জাদুন সৌদিতে হামলা চালানো ক্ষেপণাস্ত্রের কঠোর সমালোচনা করেন এবং রিয়াদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই দেশটির সংঘাত শুরু হয়ে গেছে। যার ফলে, পরবর্তী বছর ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সেখানে হস্তক্ষেপ করে। ২০২২ সাল থেকে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চলছে তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনায় নতুন করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
এবারের উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে যখন সোমবার ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে দেশটির সরকারি বাহিনী হামলা চালায়। সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের দাবি, তারা সানা বিমানবন্দরে একটি ইরানি বিমান অবতরণ ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেয়। আসলে, সম্প্রতি প্রয়াত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরান সফরে যাওয়া হুথি প্রতিনিধিদের ফিরিয়ে আনতে বিমানটি পাঠানো হয়েছিল। এই বিমানবন্দর হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সৌদির দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে হুথিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, যা সৌদি বাহিনী প্রতিহত করে। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে হুথি ও ইয়েমেন সরকারের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় সংঘাতের রূপ নিয়েছে, যার কারণে ২০২২ সাল থেকে চলমান শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: ডন
আরও পড়ুন: হরমুজে ৩ জাহাজে আগুন, ইরান দাবি করেছে ২ মার্কিন ড্রোন জব্দ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন