প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মালদ্বীপে স্থানীয় হাসপাতাল ও মর্গের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে দেশে ফিরেছে ৪৫ বছর বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশি মো. শেখ ফরিদের মরদেহ।
শেখ ফরিদের বাড়ি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামে। তার বাবা নসা মিয়া। শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১টার সময় বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। বিষয়টি সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেছে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন।
হাইকমিশন জানায়, শেখ ফরিদের মরদেহ মৃত্যুর পর সাত দিন ধরে স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা ছিল। মালদ্বীপের আইন অনুযায়ী, কোনো বৈধ প্রবাসী কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে অথবা অসুস্থ ও আহত হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ইনস্যুরেন্সের আওতায় তার চিকিৎসার খরচ এবং প্রয়োজন হলে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
এদিকে, মৃত্যুর সময় শেখ ফরিদ মালদ্বীপে বৈধভাবে অবস্থান করছিলেন না, এর ফলে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
পরে, মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী এবং শেখ ফরিদের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
হাইকমিশন জানায়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিত করা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমাদের সবসময় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
শেখ ফরিদের নিকটাত্মীয় ও বিএনপি মালদ্বীপ শাখার সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, প্রায় দুই বছর আগে নতুন কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মালদ্বীপে এসেছিলেন শেখ ফরিদ।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে স্ট্রোকের কারণে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে সহকর্মীরা দ্রুত তাকে মালদ্বীপের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
শরিফুল ইসলাম জানান, শেখ ফরিদ মালদ্বীপে যাওয়ার পর প্রথমে বিভিন্ন কোম্পানিতে বৈধভাবে কাজ করতেন। তবে ভিসা ফি পরিশোধ না হওয়ায় শেষ দিকে তিনি অবৈধভাবে সেখানে অবস্থান করছিলেন। এই কারণে তার কাছে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় কোনো কোম্পানি তার মরদেহ দেশে পাঠানোর দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়নি।
পরে, বাংলাদেশি প্রবাসী এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় শেখ ফরিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়, যার জন্য তিনি হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
শেখ ফরিদকে শেষবারের মতো বিদায় জানানোর জন্য শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে মালদ্বীপের বিমানবন্দরে তার স্বজন, সহকর্মী এবং ঘনিষ্ঠ প্রবাসীরা জড়ো হন। সেই সময় ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
মরদেহ দেশে পাঠানোর সময় বিমানবন্দরে শোকের পরিবেশ নেমে আসে। স্বজন ও সহকর্মীরা আবেগঘন পরিবেশে শেখ ফরিদকে শেষ বিদায় জানান।
বিনা খরচে শেখ ফরিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তারা বলেন, প্রবাসীদের দুঃসময়ে সরকারের সহযোগিতা প্রশংসনীয়।
এদিকে, গত এক সপ্তাহের মধ্যে মালদ্বীপে আটজন প্রবাসী বাংলাদেশের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, এসব মৃত্যুর মধ্যে আত্মহত্যা, কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, স্ট্রোক এবং হৃদরোগের ঘটনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একের পর এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু মালদ্বীপে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার রাত প্রায় ১০টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেখ ফরিদের মরদেহ গ্রহণ করেন তার নিকটাত্মীয় শিপুল ও আজিজ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন