০৮:৫৯ এম
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, আগের দিন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছিল। কিন্তু শুক্রবার ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অবিরত রাখার হুমকির জেরে আবার তেলের দাম সামান্য বেড়ে গেছে।
এতে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তির দাম ৯ সেন্ট বা দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলার ১৬ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১ ডলার ২৯ সেন্টে পৌঁছেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দুই ধরনের তেলের দামই ২ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছিল।
আরও পড়ুন: প্রযুক্তি জায়ান্টদের ইউক্রেনীয়দের রক্তের বিনিময়ে ব্যবসার অভিযোগ
ফলস্বরূপ, ব্রেন্টের টানা ছয় সেশন এবং ডব্লিউটিআইয়ের টানা পাঁচ সেশন ধরে দাম বাড়ার প্রবণতা শেষ হয়ে যায়। তবে সপ্তাহের হিসাবে দুই ধরনের তেলের দামই প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধির পথে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের ওপর নৌ অবরোধ অনির্দিষ্টকাল ধরে বজায় রাখা হতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট একটি সাক্ষাৎকারে সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সের ‘রব শ্মিট টুনাইট’ অনুষ্ঠানে বলেছেন, আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আরও ঘোষণা আসতে পারে। তিনি বলেছেন, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা আগে দেখা যায়নি।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ই-কমার্সে রিমার্কের শক্ত অবস্থান, বিশ্ববাজারে যাচ্ছে হাজারো পণ্য
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো সীমিত রয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ সংঘাত শুরুর আগে এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হত। ফলে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জ্বালানির দামও চাপের সম্মুখীন হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রধান হোসেইন তাইয়েব বলেছেন, প্রণালিটি ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস এই তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও চলতি সপ্তাহে বাজারে এর কিছুটা ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো, বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) উভয়েই তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস снижение করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুতও বেড়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত সাড়ে তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। মজুত বেড়ে যাওয়ার মানে হলো বাজারে সরবরাহের চাপ কিছুটা কমতে পারে। ফলস্বরূপ, এতে তেলের দাম বাড়ার গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কেসিএমের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মন্তব্য করেন, তেলের বাজারে বর্তমানে দুটি বিপরীতমুখী শক্তি কাজ করছে। একদিকে ইরানকে ঘিরে সংঘাত ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দাম বাড়াচ্ছে। অপরদিকে, তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার পূর্বাভাস এবং যুক্তরাষ্ট্রে মজুত বাড়ার তথ্য দাম বাড়ানোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, এই দুই ধরনের চাপের কারণে বাজারে তেলের দামের প্রতি কিছুটা সমর্থন থাকতে পারে, কিন্তু দাম বড় ধরনের উত্থান ঘটাতে পারছে না। এরই মাঝে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির দুটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম এ তথ্য জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার এ ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করে নিন্দা জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: বিশ্ববাসী একদিন বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন