১২:৫৯ পি.এম
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের শিমরাইল থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত, পুরো এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সড়কের পাশেই চলছে যাত্রী ওঠানামা।
এমনকি পুলিশ বক্সের সামনে গড়ে উঠেছে অটোরিকশা স্ট্যান্ড।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জ নগর খানপুর গোয়ালপাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ জনবহুল শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকা। ব্যস্ত এই নগরীর দুই মহাসড়কে দাপিয়ে চলছে ব্যাটারি এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা। কখনো কখনো স্বল্প ও দূরপাল্লার পরিবহনের সঙ্গেও পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যার ফলে নিয়মিতভাবে দুর্ঘটনা ও প্রাণহাণির ঘটনা ঘটে।
সড়কে নিয়মিতভাবে চলাচল করা বাস-ট্রাকচালকরা জানান, দুর্ঘটনার বড় কারণ হচ্ছে মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল। এইছাড়া, নিয়ম না মেনে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিভিন্ন মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারি এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা। বড় যানবাহনের সাথে পাল্লা দিয়ে বেপরোয়া গতিতে চলাচলের কারণে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।
স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে কমপক্ষে ২০টি জায়গায় বেপরোয়া গতিতে রাতে ও দিনে বিরামহীন অটোরিকশা চলছে। অধিকাংশ অটোরিকশাচালক অদক্ষ। ফলে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে চলছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা।
সিদ্ধিরগঞ্জ ও আড়াইহাজারে কতগুলো সিএনজি চালিত অটোরিকশা সড়ক-মহাসড়কে চলাচল করে তার প্রকৃত তথ্য প্রশাসনের কাছে জানা নেই। তবে আড়াইহাজার ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় বিভিন্ন সড়কে অন্তত চার থেকে পাঁচ হাজার অটোরিকশা চলাচল করছে বলে জানা গেছে। এসব অটোরিকশার অধিকাংশ চালকের লাইসেন্স নেই এবং নিবন্ধনও নেই। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও পুলিশের সঙ্গে ম্যানেজ করে অটোরিকশাগুলো চলাচল করছে।
আরও পড়ুন: ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধ, ভাড়াটিয়াদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
বাসচালক আহসানউল্লাহ মজুমদার বলেন, ‘অটোরিকশা এক প্রকার অত্যাচার শুরু করছে। তাদের জন্য আমরা গাড়ি চালাতে পারি না। তারা যদি লোকাল রাস্তায় চলাচল করে তাহলে আমাদের সমস্যা হয় না। কিন্তু মহাসড়কে চললে তেমন সমস্যা হয়। তাদের গাড়ি চালানোর বিষয়ে নূনতম জ্ঞান নেই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএনজিচালিত এক অটোরিকশাচালক প্রতিবেদককে জানান, গত ৫ আগস্টের পর মহাসড়কে আমাদের সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালাতে কোনো রকমের মাসোহারা লাগতো না। কিন্তু কয়েকমাস যাবত প্রতি মাসে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশকে এক হাজার টাকা মাসোহারা দিয়ে গাড়ি চালাতে হয় আমাদের। তারা যদি প্রতি মাসে তাদের নিয়োজিত দালালদের হাতে টাকা না দেয়, তাহলে আমাদের গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা বা বিভিন্ন রকমের হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়।
সরেজমিনে কাঁচপুর বাস স্ট্যান্ডের পুলিশ ফাঁড়ির সামনে গিয়ে দেখা যায় অটোরিকশার স্টপেজ। যত্রতত্রভাবে চলছে যাত্রী ওঠানামা।
অটোরিকশা চালকদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, পুলিশ আমাদের ধরে কিন্তু টাকা দিলে ছেড়ে দেয়। ধরলে ২৬০০ টাকা জরিমানা দিয়ে গাড়ি ছাড়াতে হয়। আশপাশে চালালে তেমন আয় হয় না, তাই মহাসড়কে চলাচল করি।
আরও পড়ুন: খুলনায় ‘নূর আজিম গ্রুপের’ ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার
তবে অবৈধ যান চলাচল বন্ধে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি শামীম শেখ কালের কণ্ঠকে জানান, ‘মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ। আমরা তাদেরকে নিরুৎসাহিত করি। মাইকিং করে জানিয়েছি মহাসড়কে যেন এ ধরনের যান না আসে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন