১১:৫০ পি.এম
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, গাজার উপত্যকায় তাদের অভিযানে হামাসের শুজাইয়া ব্যাটালিয়নের সামরিক নিরাপত্তা প্রধান মোহাম্মদ নাইম জানদিয়া নিহত হয়েছেন। এই খবরটি আল জাজিরার মাধ্যমে জানা গেছে।
টেলিগ্রামে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায় যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় অপহৃত তিনজন ইসরাইলি জিম্মিকে একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকে রাখার দায়িত্বে ছিলেন জানদিয়া।
ইসরাইলের দাবি অনুযায়ী, ওই তিন জিম্মি পরবর্তীকালে গাজার ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। সে সময় সেনারা ভুলবশত তাদের ফিলিস্তিনি হিসেবে শনাক্ত করেছিল, এই কথা ইসরাইল স্বীকার করেছিল।
আরও পড়ুন: বেরোবিতে ৩য় বার্ষিক তাঁবু বাস ও দীক্ষা অনুষ্ঠান-২০২৬ শুরু
তবে মোহাম্মদ নাইম জানদিয়ার নিহত হওয়ার দাবি বা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নির্ধারিত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে, এর ফলে অধিক সংখ্যক ফিলিস্তিনি এলাকা বাসিন্দাদের জন্য অপ্রবেশযোগ্য হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্যদের মানবাধিকার সংগঠন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স।
সংগঠনটির দাবি, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে কার্যকর হতে যাওয়া গাজার যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ইসরাইলি সেনাবাহিনী যে সীমারেখা পর্যন্ত সরে গিয়েছিল, সেটিই প্রথমে ‘ইয়েলো লাইন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে এর পর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা গাজার মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৫৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭০ শতাংশে পৌঁছে গেছে।
এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স জানায়, এর ফলে গাজার প্রায় পুরো জনসংখ্যা এখন উপত্যকার এক-তৃতীয়াংশেরও কম এলাকায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ফ্লাইট চালু হবে: আরিফুল হক
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ইয়েলো লাইন’-এর সম্প্রসারণের কারণে পানির উৎস, স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। পাশাপাশি এই নীতির ফলে বহু ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সংগঠনটি জানায়, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত ‘ইয়েলো লাইন’-সংলগ্ন এলাকায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৯৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৮ জন নারী ও ৪৩ জন শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স আরও অভিযোগ করে, ‘ইয়েলো লাইন’ কার্যত একটি ‘কিল জোন’ বা মৃত্যু অঞ্চল, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নিয়ম অত্যন্ত শিথিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: গত আট মাসে জ্বালানি আমদানিতে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি : বিদ্যুৎমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন