০৩:৫২ পি.এম
আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির অসাধারণ হ্যাটট্রিকে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। এবারের চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে অস্ট্রিয়া। এই ম্যাচে যদি ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষকে হারাতে পারে, তাহলে নিশ্চিত হয়ে যাবে নকআউট পর্বে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জায়গা। ইউরোপের এক সময়ের সাড়া জাগানো ফুটবলশক্তি অস্ট্রিয়া দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছে। যার প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে তারা জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় পেয়েছে। এই জয় তাদের আর্জেন্টনার বিরুদ্ধে জয়ী হলে নকআউট পর্বে যেতে সক্ষম করবে।
ডাকনাম: ডাস টিম
ফিফা র্যাঙ্কিং: ২৪তম
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
কোচ: রাল্ফ রাংনিক
অধিনায়ক: ডেভিড আলাবা
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: এটি তাদের অষ্টমবার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ।
সেরা সাফল্য: ১৯৫৪ সালে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
অস্ট্রিয়ার তারকা খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ডেভিড আলাবা (রিয়াল মাদ্রিদ), মার্সেল জাবিৎসার (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড), মার্কো আর্নাউতোভিচ (রেডস্টার বেলগ্রেড), কনরাড লাইমার (বায়ার্ন মিউনিখ) এবং রোমানো স্মিড (ভের্ডার ব্রেমেন)।
অস্ট্রিয়া বিশ্বকাপে আসার পথ:
ইউরোপিয়ান বাছাই পর্বে অস্ট্রিয়া 'এইচ' গ্রুপে ছিল। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল রোমানিয়া, বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, সাইপ্রাস এবং সান মারিনো।
বাছাই পর্বে তারা ৬ জয়, ১ ড্র ও ১ হারের মাধ্যমে ১৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে নিজেদের গ্রুপে প্রথম হয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছিল। এই ৮ ম্যাচে তারা ২২ গোল করেছে এবং মাত্র ৪ গোল হজম করেছে।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
বাছাই পর্বে অস্ট্রিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৮ গোল করেছেন মার্কো আর্নাউতোভিচ।
ম্যাচের তারকা খেলোয়াড়দের দিকে নজর:
অস্ট্রিয়ার ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দলে সবচেয়ে বড় তারকা অধিনায়ক ডেভিড আলাবা। রক্ষণভাগের প্রধান ভরসা হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা আছেন। মিডফিল্ডের সৃজনশীলতার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছেন মার্সেল জাবিৎসার, যিনি ২০২৪ সালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলেছেন। জর্ডানের বিরুদ্ধে অস্ট্রিয়ার উদ্বোধনী ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে তার ৯৮তম ম্যাচ ছিল। আক্রমণভাগে রয়েছে ৩৭ বছর বয়সী মার্কো আর্নাউতোভিচ, যিনি অস্ট্রিয়ার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার। জর্ডানের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দলের তৃতীয় গোলটি করেছিলেন রেডস্টার বেলগ্রেডের এই স্ট্রাইকার।
বায়ার্ন মিউনিখের মিডফিল্ডার কনরাড লাইমারের দিকে নজর রাখতে হবে। এই বক্স টু বক্স মিডফিল্ডার তার অসাধারণ কর্মদক্ষতা এবং বল জয়ের ক্ষমতার কারণে পরিচিত। প্রয়োজনে ফুলব্যাক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এছাড়া অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রোমানো স্মিডের প্রতিও বিশেষ নজর রাখতে হবে। বুন্দেসলিগার ক্লাব ভের্ডার ব্রেমেনের ২৬ বছর বয়সী এই তারকা জর্ডানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দারুণ একটি গোল করেছে।
আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম
অস্ট্রিয়ার কোচ রাল্ফ রাংনিক:
অস্ট্রিয়ার প্রধান কোচ রালফ রাংনিকের খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার মাত্র ২৫ বছর বয়সে শেষ হয়ে যায়। সাবেক এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার পরে একজন সফল কোচ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার আক্রমণাত্মক কাউন্টার-প্রেসিং কৌশল, যা 'গেগেনপ্রেসিং' নামে পরিচিত, আধুনিক ফুটবলে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। লিভারপুলের সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ রাংনিকের এই কৌশল কাজে লাগিয়েই দীর্ঘদিন বাদে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটিকে সাফল্য এনে দিয়েছিলেন।
কোচিং ক্যারিয়ারে তিনি জার্মানির ভিএফবি স্টূটগার্ট, হ্যানোভার ৯৬, শালকে জিরোফোর, হফেনহেইম এবং আরবি লাইপজিগের মতো ক্লাবের দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে সংক্ষিপ্ত সময় কাজ করার পর ২০২২ সালে তিনি অস্ট্রিয়ার জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন। তার অধীনে অস্ট্রিয়া ২০২৪ ইউরোর শেষ ষোলোতে (রাউন্ড অব ১৬) পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল।
অস্ট্রিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাস:
আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি
অস্ট্রিয়া এর আগে সাতবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেছে। এবারের আগে তাদের শেষ বিশ্বকাপ খেলার সময় ছিল ১৯৯৮। এছাড়া ১৯৮২ সালের পর দলটি আর কখনোই গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে সক্ষম হয়নি।
বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে তাদের প্রথম দুটি অংশগ্রহণের সময়। ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে, যখন টুর্নামেন্টটি সরাসরি নকআউট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হতো, তারা চতুর্থ স্থান অর্জন করে। এরপর ১৯৫৪ বিশ্বকাপে উরুগুয়েকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জয় করে এবং তৃতীয় স্থান লাভ করে। উরুগুয়ের বিপক্ষে সেই জয় এখনও বিশ্বকাপ ইতিহাসে অস্ট্রিয়ার সর্বোচ্চ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড রয়েছে ফ্রিডরিখ কনসিলিয়া, এরিখ ওবারমায়ার, ব্রুনো পেজি এবং হার্বার্ট প্রোহাজকা। তারা প্রত্যেকেই ১১টি করে ম্যাচ খেলেছেন।
বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন এরিখ প্রোপ্সট, যার গোল সংখ্যা ৬টি।
আরও পড়ুন: রাজউকের ১২৬৯ ভবনের মালিককে চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা
সাম্প্রতিক ফর্ম:
অস্ট্রিয়া বিশ্বকাপে এসেছে অসাধারণ ফর্ম নিয়ে। গত বছর নভেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে ১-১ গোলের ড্রয়ের পর টানা চার ম্যাচে জিতেছে। এই সময়ে তারা হারিয়েছে ঘানা, দক্ষিণ কোরিয়া, তিউনিসিয়া এবং জর্ডানকে। এর মধ্যে ঘানার বিপক্ষে ৫-১ ব্যবধানের জয়ও রয়েছে।
আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে পরিসংখ্যানে কে এগিয়ে?
প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে এই দুই দল এবারে প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে। তবে প্রীতি ম্যাচে দুবার মুখোমুখি হয়েছে অস্ট্রিয়া ও আর্জেন্টিনা। সেখানে পারফরম্যান্সের নিরিখে এগিয়ে রয়েছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
১৯৮০ সালে ভিয়েনায় প্রথম দেখায় আর্জেন্টিনা অস্ট্রিয়াকে ৫-১ গোলে পরাজিত করে। ১০ বছর পরে তাদের দ্বিতীয় দেখায় ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। তাছাড়া ১৯৬৬ সালে একটি আনঅফিসিয়াল ফ্রেন্ডলি ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল অস্ট্রিয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন