০৯:৪৫ এম
জাপানের টোকিও-সংলগ্ন চিবা প্রিফেকচারে নজিরবিহীন ও রেকর্ড পরিমাণ ভারী বর্ষণের পর এক আকস্মিক বন্যার কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে অন্তত চারজনের মৃত্যু ঘটেছে এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
ভয়াবহ এই বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় পরিবহনব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে, ফলে হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। জাপানের অন্যতম প্রধান ছুটির মৌসুমে প্রবল বর্ষণের কারণে, টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকা পড়ে রয়েছেন প্রায় সাত হাজার যাত্রী। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে ইতিমধ্যে দেশটির সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে।
রাজধানী টোকিওর পার্শ্ববর্তী চিবা প্রিফেকচারের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৩৬০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা ভারী বর্ষণের ফলে মুহূর্তের মধ্যে রাস্তাঘাট ও রেলপথ তলিয়ে যায়। কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া একটি গাড়ির ভেতরে আটকে পড়ে একজনের মৃত্যু ঘটে।
আরও পড়ুন: অনুপ্রবেশকারীর গল্প সাজিয়ে মুসলিমদের নিশানা করছে সরকার: ওয়াইসি
শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চিবুর গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন একটি পরিস্থিতি। তিনি নিজের অভিজ্ঞতায় নিশ্চিত করেছেন যে, অতীতে বহু দুর্যোগ মোকাবিলা করেছেন, কিন্তু এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনো হননি।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অঞ্চলজুড়ে নাগরিক পরিষেবাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ১১টা পর্যন্ত ওই এলাকায় ২২ হাজারের বেশি পরিবার সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। চিবু শহরের সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। সেখানে সরকারি ভবনগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং শত শত দুর্গত মানুষ ফয়েল ব্ল্যাঙ্কেট মুড়ি দিয়ে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রবল বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে নারিতা বিমানবন্দরে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পরিবহনব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে প্রায় সাত হাজার বিমানযাত্রী টার্মিনালেই আটকা পড়ে আছেন। তবে, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও শুক্রবারের নির্ধারিত সকল ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। দেশটির জাতীয় বিমান সংস্থা ‘জাপান এয়ারলাইন্স’ জানিয়েছে, দুর্যোগের কারণে কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে, তবে এই মুহূর্তে তাদের কোনো ফ্লাইট বাতিলের পরিকল্পনা নেই।
হাইওয়ে পরিচালনাকারী সংস্থা ‘নেক্সকো ইস্ট’ জানিয়েছে, চিবাকে সংযোগকারী বেশ কয়েকটি প্রধান মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়ায় বিকল্প রাস্তাগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ট্রেন পরিষেবা স্থগিত রাখতে হয়েছিল। তবে, নারিতা বিমানবন্দর ও টোকিও শহরের মধ্যে বিশেষ ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় বিমানবন্দর এলাকার উপচে পড়া ভিড় কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: ৮ কোটি মিসরীয় থাকতে কেন ভারতীয়কে বিয়ে করলেন আল-সায়েদ
জাপানের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-তে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, গত রাতে বিমানবন্দরে আটক যাত্রীদের মধ্যে শত শত ব্যক্তি কম্বল, পানির বোতল ও হালকা খাবার সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। পরে, তারা টার্মিনাল ভবনের মেঝেতেই রাত কাটানোর ব্যবস্থা করেন।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নারিতা বিমানবন্দরে আটকে পড়া এক মার্কিন পর্যটক এনএইচকে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, জীবনের এই ভয়াবহ ও চরম দুর্ভোগের ভ্রমণের কথা তারা কখনো ভুলতে পারবেন না।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের গভীর ও সম্মানজনক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়: মাহদী আমিন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন