ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ববির নতুন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির


ববির নতুন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) নতুন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুল আলিম বছির।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে সহকারী রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) ড. মোছা. সানজিদা সুলতানা ও জিনিয়া খান ঝিনুক স্বাক্ষরিত একটি আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয় যে, ড. আবদুল আলিম বছির নিজ বিভাগের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তিনি এ দায়িত্বের জন্য নির্ধারিত ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। তাঁর যোগদানের তারিখ থেকেই এ আদেশ কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন: এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়ন আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি, ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন

একই আদেশে পূর্ববর্তী ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবীরকে অতিরিক্ত দায়িত্ব সফলভাবে পালন করায় ধন্যবাদ জানিয়ে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত থেকে গত ২৯ এপ্রিল থেকে ২৭ জুলাই ২০২৬ (পূর্বাহ্ণ) পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করেন।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত তারিখে বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন এবং নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উন্নয়নের মূল শক্তি জ্ঞান ও মেধা: তথ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০৪ এম


উন্নয়নের মূল শক্তি জ্ঞান ও মেধা: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেছেন যে, উন্নয়নের মূল শক্তি হচ্ছে জ্ঞান ও মেধা। তিনি বলেছেন, ‘প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, সম্পদ থাকলেও জ্ঞানের অভাবে তা বোঝায় পরিণত হতে পারে।’

মানুষ একমাত্র প্রাণী, যে তার জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগের মাধ্যমে পৃথিবীকে বদলে দিয়েছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য জ্ঞানচর্চার কোনো বিকল্প নেই।

এ কথা তিনি সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কীর্তনখোলা অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘ডিনস মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বিভিন্ন অনুষদের ১০৯ জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ডিনস মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ তুলে দেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আজ যারা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছো, তোমাদের অর্জনে আমরা গর্বিত। বর্তমানে বিশ্ব শুধু সম্পদের ওপর নির্ভরশীল নয়; জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উন্নত থাকা দেশগুলোই বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাই আমাদের জ্ঞানচর্চায় আরো মনোযোগী হতে হবে। আজকের মেধাবীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, শিক্ষকদের কষ্টের ফলই এই অর্জন। সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব মেধাবী শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ‘ডিনস মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ এর আহ্বায়ক ড. হাফিজ আশরাফুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন।

অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে অনুভূতি প্রকাশ করেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান এবং কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইতি খান মিতু।

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ও সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. ধীমান কুমার রায়, প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল, কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. ইসরাত জাহান, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন মো. হারুন-অর-রশিদ, আইন অনুষদের ডিন ড. সরদার কায়সার আহমেদ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুতিনের গর্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০৯ এম


পুতিনের গর্ব

রাশিয়া বর্তমানে বরফ ভাঙার ক্ষমতা সম্পন্ন শক্তিশালী জাহাজ (আইসব্রেকার) বহর পরিচালনায় বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বহুদূরে এগিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির সাইকত পুতিন। আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে যাওয়া বিনিয়োগকে দেশের একটি বড় জাতীয় কৌশলগত সুবিধা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

নৌবাহিনী দিবস উপলক্ষে সামরিক কর্মকর্তা ও পদকপ্রাপ্ত নাবিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন পুতিন। তিনি জানান, বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইসব্রেকার বহর রাশিয়ার দখলে রয়েছে। এর মধ্যে ৪০টিরও বেশি সাধারণ এবং আটটি পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন জাহাজ রয়েছে। এছাড়া এই বহরকে আরও উন্নত করতে নতুন প্রজন্মের জাহাজ তৈরির কাজও চলমান রয়েছে।

পুতিন আত্মবিশ্বাসী সুরে বলেন, বিশ্বের আর কোনো দেশের এমন সক্ষমতা নেই। কেউ যদি এখন এমন বহর বানানোর উচ্চাশা করে, তবে উচ্চ প্রযুক্তির দেশগুলো হয়তো তা করতেও পারে, কিন্তু এর জন্য কয়েক বছর, এমনকি দীর্ঘ দশক সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। অন্য দেশগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ সবার সঙ্গে থাকুক, তারা কাজ করে যাক।

উত্তর উপকূলীয় অঞ্চলে নৌচলাচলের জন্য এই আইসব্রেকার বহর অত্যন্ত জরুরি। রাশিয়ার এই কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বকে দীর্ঘদিন ধরেই বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে ন্যাটো সদস্য দেশগুলো। এদিকে, রাশিয়ার এই অগ্রযাত্রাকে লক্ষ্য করে বৈশ্বিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। উত্তর মেরু বা আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে এবং রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবধান কমাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোও বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতের কাছে নিচ্ছে।

রাশিয়া মূলত উত্তরের সামুদ্রিক পথ বা নর্দান সি রুট উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং উত্তর ইউরোপের মধ্যে এটিই সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সামুদ্রিক পথ, যা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত জলসীমার মধ্য দিয়ে গেছে। তবে জলবায়ুগত পরিস্থিতি এবং বরফ জমে থাকার কারণে এই রুটের ব্যবহার এখনো সীমিত রয়েছে। এর জন্য কার্গো জাহাজের পথ পরিষ্কার করতে আইসব্রেকার জাহাজের সহায়তা অপরিহার্য। মস্কো আশা করছে, আগামী বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিকল্প লোহিত সাগর রুটে নিরাপত্তাঝুঁকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে এই রুশ করিডোর আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনার জালে জড়ানো কাবরালের অনিন্দ্য গোলটিই বিশ্বকাপের সেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৪ এম


আর্জেন্টিনার জালে জড়ানো কাবরালের অনিন্দ্য গোলটিই বিশ্বকাপের সেরা

মায়ামি স্টেডিয়ামে গোলটি করার পর কেপ ভার্ডের ডিফেন্ডার সিডনি লোপেস কাবরাল নিজের গোলের বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। আর্জেন্টিনার জালে বলটি জড়ানোর পর তিনি মাথায় দুই হাত দিয়ে অবাক হয়ে যান।

কাবরাল যেন অবিশ্বাসের সুরে জানিয়ে দেন যে, 'আমি কি সত্যিই গোলটি করেছি?' পরে তিনি নিজেই অবিশ্বাসের বিষয়টি স্বীকার করেন।

কাবরালের সেই অসাধারণ গোলটি ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘হুন্দাই গোল অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা অফিসিয়ালি এটি নিশ্চিত করেছে।

কাবরাল গোলটি করেছেন রাউন্ড অব ৩২-এ। ১০৩ মিনিটে বাঁ প্রান্তের বক্সের মধ্যে কাছ থেকে ডান পায়ের বাঁকানো শটে তিনি গোলটি করেন। ২৩ বছর বয়সী লেফট ব্যাকের গোলে কেপ ভার্ডে ম্যাচে ২-২ সমতায় ফিরেছিল। তবে ১১১ মিনিটে সেন্টার ব্যাক ডিনেই বোর্জেসের আত্মঘাতী গোলে তারা ম্যাচ হারায়।

সেরা গোলের স্বীকৃতি পাওয়ার পথে কাবরালের পেছনে রয়েছে উজবেকিস্তানের এলদর শোমুরোদভ (দ্বিতীয়) এবং হাইতির উইলসন ইসিডরের (তৃতীয়) গোল। গোলটির বিষয়ে কাবরাল বলেছেন, ‘যেই মুহূর্তে আমি প্রতিপক্ষকে (মাক আলিস্তার) কাটিয়ে ফাঁকা জায়গা দেখতে পেলাম তখনই ভাবলাম—একবার চেষ্টা করে দেখি। জায়গাটি দেখে টপ কর্নারের দিকে আমি চোখ দিই। সেদিকে লক্ষ্য স্থির করি এবং খুব দারুণভাবে বলটিতে শট নিই। যখন ওপরে তাকালাম এবং দেখলাম, বলটি টপ কর্নারের দিকে যাচ্ছে, তখন আমার মনে হলো, আমি এটা কী করলাম! আমার নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না। আমি আমার সতীর্থদের দিকে তাকালাম—সবাই আনন্দে চিৎকার করছিল, বিস্ময়ে মাথায় হাত দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিল।’

এটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় কেপ ভার্ডে। দলের অভিষেকে কাবরাল অবিস্মরণীয় গোলটি করে রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরবর্তী পরমাণু শক্তিধর হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে কারা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৯ এম


পরবর্তী পরমাণু শক্তিধর হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে কারা?

মধ্যপ্রাচ্যের মরুপ্রান্তরে এখন নতুন এক উত্তেজনার ঝড় বইছে। ওয়াশিংটন এবং রিয়াদের মধ্যে গোপন আঁতাত এবং হিসাব-নিকাশ পুরো আঞ্চলিক রাজনীতির মানচিত্র পাল্টে দিচ্ছে। মার্কিন পরমাণু নীতিতে একটি বড়সড় শিথিলতা এনে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরব বহুচর্চিত পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে। এই চুক্তির নাম সেকশন ১২৩, যা মধ্যপ্রাচ্যের বুকে এক নতুন পারমাণবিক শক্তির উত্থানের পথ তৈরি করছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা-কল্পনা।

মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান স্বাক্ষরিত এই চুক্তির পেছনে আমেরিকার বড় স্বার্থ রয়েছে। চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন কোম্পানিগুলো এখন সরাসরি সৌদির পরমাণু প্রকল্পে প্রযুক্তি এবং সরঞ্জাম সরবরাহ করার সুযোগ পাবে। যদিও কাগজে-কলমে এটি কেবল শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের বিষয় বলে উল্লেখ রয়েছে, কিন্তু এর গভীরে রয়েছে অন্য এক চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রায় ৯০ দিনের চূড়ান্ত পর্যালোচনার অপেক্ষায় থাকা এই চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর শঙ্কা দানা বাঁধছে।

এখনও সবচেয়ে ভাবনার বিষয় হলো, এই চুক্তির শর্তগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে অনেক পুরনো কিছু কড়াকড়ি। আরব আমিরাতের সঙ্গে হওয়া চুক্তির মতো এই ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পরমাণু জ্বালানি পুনর্ব্যবহার নিষিদ্ধ করার ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ মান বজায় রাখা হয়নি। এমনকি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার কঠোর অতিরিক্ত প্রটোকল মানার বাধ্যবাধকতাও এই চুক্তিতে রাখা হয়নি। ফলে যদি সৌদি আরব ভবিষ্যতে নিজেদের অজান্তেই সম্পূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি চক্রের মালিক হয়ে ওঠে, তবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পুরনো হুংকার আবারও সামনে আসছে। কয়েক বছর আগে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি পরমাণু বোমা তৈরি করে, তবে সৌদি আরবও বিশ্রামে থাকবে না; তারা একই পথে হাঁটবে। আজকের এই পরিস্থিতিতে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলছে। মার্কিন আগ্রাসনের আবহে সৌদি আরব তাদের নিজস্ব বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অনেক উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে, যা যে কোনো মুহূর্তে সামরিক মোড় নিতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন এই পদক্ষেপে দ্বিমুখী নীতির গন্ধ আছে। যখন তেহরান একই ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করেছিল, তখন তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আর সামরিক হুমকি নেমে এসেছিল। কিন্তু ওয়াশিংটন এখন নিজের ঘনিষ্ঠ মিত্র রিয়াদকে একই পথে হাঁটার আইনি ভিত্তি তৈরি করে দিচ্ছে। ইসরায়েলও এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছে যে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়ংকর পারমাণবিক প্রতিযোগিতার সূচনা করতে পারে।

সৌদি আরব যদিও এখনই সরাসরি পারমাণবিক বোমা তৈরির ঝুঁকি হয়তো নেবে না। ভিশন ২০৩০-এর আওতায় অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য আনা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জল সংকট নিরসনের মতো উদ্দেশ্য রয়েছে। তবে দেশের ভেতর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অবকাঠামো তৈরি হয়ে গেলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটু এদিক-সেদিক হলেই খেলার নিয়ম পাল্টাতে পারে। কৌশলগত এই অনিশ্চয়তা সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চিরশত্রু ইসরায়েল এই পরিস্থিতি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। সৌদি আরবের সঙ্গে তেল আবিবের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনও স্বাভাবিক নয়, কিন্তু ওয়াশিংটন এই মুহূর্তে পারমাণবিক চুক্তিকে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্ত থেকে আলাদা করে রেখেছে। আঞ্চলিক কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব হারানোর ভয়ে ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকরা নতুন করে ছক কষতে শুরু করেছেন। সৌদি আরবের হাতে পারমাণবিক প্রযুক্তির চাবিকাঠি চলে যাওয়ার অর্থ হলো পুরো অঞ্চলে এক স্থায়ী বারুদের স্তূপ তৈরি হওয়া।

সব মিলিয়ে, ওয়াশিংটন এবং রিয়াদের এই পরমাণু চুক্তি বিশ্ব রাজনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের বীজ বুনে দিল। আমেরিকার মূল উদ্দেশ্য হলো নিজেদের পরমাণু শিল্পকে বাঁচানো এবং রাশিয়া কিংবা চীনের প্রভাব থেকে সৌদি আরবকে দূরে রাখা। তবে এই স্বল্পমেয়াদী ভূরাজনৈতিক ফায়দা তুলতে গিয়ে আমেরিকা যে পারমাণবিক বিস্তার রোধের আন্তর্জাতিক নীতিকে চিরতরে বিপন্ন করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%