০৬:০১ পি.এম
ইয়েমেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল-মাখা (মোখা) বন্দরে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এ হামলা বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি অবস্থিত দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঘটেছে এবং ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নতুন করে হামলার খবর প্রকাশ করেছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সাবা টিভির প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, হুথিরা আল-মাখা বন্দরে নতুন করে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। হামলার পর হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
হামলার বিষয়ে হুথিদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আল-মাখা বন্দরে সর্বশেষ হামলাটি ঘটেছে ঠিক এমন সময়ে, যখন এর মাত্র এক দিন আগে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হুথিদের বিরুদ্ধে একই শহরে হামলার অভিযোগ তুলেছিল।
আরও পড়ুন: এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়ন আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি, ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, আল-মাখা শহর লক্ষ্য করে হুথিরা ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। নতুন হামলার ক্ষেত্রে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলো কোথায় আঘাত হেনেছে অথবা কোনও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
আল-মাখা বন্দর ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি লোহিত সাগরের তীরে। এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায়, এই বন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আঞ্চলিক নৌ চলাচল ও বাণিজ্যিক পরিবহনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
বাব আল-মান্দাব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এই প্রণালিটি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। ফলে, আল-মাখা ও এর আশপাশে হামলা বাড়লে তা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীর সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে কৌশলগত বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থানগুলোকে ঘিরে হামলার পাল্টা হামলা পরিস্থিতিটিকে আরও জটিল করে তুলছে। আল-মাখা শহর ও বন্দরে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় স্থানীয় বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভারী অস্ত্র ব্যবহারের ফলে হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। সর্বশেষ হামলার রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এক দিনের ব্যবধানের মধ্যে আল-মাখা এলাকায় দ্বিতীয় দফায় হামলার খবর ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতির ইঙ্গিত করছে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল যৌথ বাহিনী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন