১২:৪৮ পি.এম
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, এ কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে বলা হয়েছে যে, ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার সব ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেয়।
আরও পড়ুন: অভ্যর্থনার অপেক্ষা না করেই জনতার ভিড়ে মিশে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
এরপর, গত বছরের ১৭ নভেম্বর জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত শেখ হাসিনার বক্তব্য ও বিবৃতি প্রচার না করতে ঘোষণা দেয় জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি। এই নির্দেশনা টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো হয়।
সম্প্রতি ফের তার সাক্ষাৎকার ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার সেই সাক্ষাৎকার বিভিন্নভাবে ছড়ানো হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে আজ ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, "দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলো আইন এবং রীতিনীতি মেনে প্রচার করবে, এবং আশা করা হচ্ছে তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
এদিকে, ব্রিফিংয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়েও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: বিশ্ববাসী একদিন বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে
তথ্য উপদেষ্টা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে এবং বলেছেন, সরকার দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই পররাষ্ট্রনীতি ঠিক রাখবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে যেকোনো দেশের কানেক্টিভিটি দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই করা হবে। সরকারের এই কানেক্টিভিটির বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে এবং চীনের সঙ্গে কানেক্টিভিটির সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, তিস্তায় নতুন একটি ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বর্ষার পানি ধরে রাখা যায়। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের জনগণ এবং স্বার্থ অনুযায়ী তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে তিনি বলেন, এটি এখনও নিশ্চিত নয়।
"চীনের এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সক্ষমতা রয়েছে। চায়নার অর্থায়নে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে," এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
এছাড়া, তিনি বলেন, টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি চলছে, তবে জনগণের কাছে খাদ্যপণ্য এরকমভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে, যে এক সময় টিসিবির এই লাইন থাকবে না এবং প্রয়োজনও হবে না।
আরও পড়ুন: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় অর্থায়ন করবে সরকার: মাহদী আমিন
এ সময় তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উচিত হবে, স্বাধীন কমিশন হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি খতিয়ে দেখা। তিনি জানান, দুদকের আওয়ামী লীগের সময়ের দুর্নীতি এবং বর্তমান সরকারের দুর্নীতিও খতিয়ে দেখা উচিত।
"দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবি হরফে লেখা পতাকা টানানোর বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে। এ সম্পর্কে যেন ভুল বার্তা না যায়, সেই কারণে পতাকা টানানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে," যোগ করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন