০৬:৫৬ পি.এম
কুষ্টিয়ার মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন খুলনা রেঞ্জের নবাগত ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, মাদক সেবন, বিক্রি অথবা এর পেছনে যেকোনো মদদদাতাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। যে কোনো পুলিশ সদস্যের মাদক ব্যবসা বা সেবনে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি প্রয়োজনে তাদের ডোপ টেস্টও করা হবে।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে তিনি এসব কথা বলেন, যখন জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। মতবিনিময় সভায় কুষ্টিয়ার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্বের কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আইনশৃঙ্খলা, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের বিষয়ে সাংবাদিকরা আলোচনা করেছেন। ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান মাদক প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন, ‘মাদক নির্মূলে পুলিশ কঠোরভাবে কাজ করবে। কেবল মাদকসেবী নয়, মাদক ব্যবসায়ী, মদদদাতা এবং তাদের সঙ্গে জড়িত সকলকে খুঁজে বের করা হবে। যদি কোনো পুলিশ সদস্য মাদক সেবন অথবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত হতেন, তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের ডোপ টেস্ট করা হবে।’
আরও পড়ুন: গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ৮,৫০০ পরিবার পাবে ৬০ হাজার টাকার শর্তহীন অনুদান: জিইউকে ও গিভডিরেক্টলির মহতী উদ্যোগ
তিনি আরো বলেন, যুবসমাজকে মাদক থেকে রক্ষা করতে পুলিশের তরফ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। মাদকের বিস্তার রোধে আইনি রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে নৌ পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’
চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ নিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এসব অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ নারীর প্রতি সহিংসতা সম্পর্কে তিনি গুরুত্ব সহকারে বলেন, সাংবাদিকরা বিভিন্ন অপরাধ তুলে ধরলেও নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয় উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, ‘নারীরা যাতে সর্বক্ষেত্রে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন, সে জন্য পুলিশের আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। বর্তমান সরকার নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।’
পুলিশের মধ্যে কোনো ধরনের জড়তা বা কর্মস্পৃহায় ঘাটতি রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি জানিয়েছেন, ‘পুলিশের মধ্যে বর্তমানে কোনো জড়তা নেই। পুলিশ স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্ব পালন করছে। ইতোমধ্যে আমাদের পুলিশ একটি জাতীয় নির্বাচন, দুটি ঈদ এবং একটি পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। যদি পুলিশে জড়তা থাকতো, তবে এতগুলো আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া সম্ভব হতো না।’
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মাঠে সক্রিয় রয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: কাউখালীতে নবযোগদানকৃত সহকারী শিক্ষকদের বরণ: শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন