০২:৩৩ পি.এম
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়া ইউনিয়নের হিরাধর গ্রামে একজন নারী, আসমা বেগম, পরকীয়ার টানে চলে গেছেন। এরপর তার স্বামী, প্রতিবন্ধী নাসির হাওলাদার, বিলে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান। বর্তমানে তাদের দুই শিশু সন্তান, মেহেদী ও মাইনুল, বসে থাকে বাবার কবরের পাশে। তারা জানে না তাদের ভবিষ্যৎ কোথায় যাবে, কে হবে তাদের আশ্রয়, এবং কে তাদের স্বপ্নগুলো বাঁচিয়ে রাখতে এগিয়ে আসবে।
মা আসমা বেগম, বাবার মৃত্যুর আগেই, দুই ছোট সন্তানকে রেখে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে চলে যান। এরপর থেকে তিনি আর সন্তানদের খোঁজ নেননি।
বর্তমানে দুই শিশুর একমাত্র আশ্রয় তাদের ষাটোর্ধ্ব বিধবা দাদি, রিজিয়া বেগম। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই বৃদ্ধা, গ্রামের মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভিক্ষা করে কোনোমতে নিজের ও নাতিদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দিন দিন শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া রিজিয়া বেগমের পক্ষে এখন দুই শিশুর দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত
বড় ছেলে, মেহেদী, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। ছোট ছেলে, মাইনুল, স্থানীয় বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। কিন্তু তারা অভাব-অনটনের কারণে লেখাপড়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এমনও দিন যায়, তিনবেলা খাবার জোটে না তাদের।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য হলো, মাঝেমধ্যে দুই ভাই তাদের বাবার কবরের পাশে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকে। কখনও খেলতে খেলতে কবরের পাশে চলে যায়, কখনও আবার আনমনে বসে থাকে দীর্ঘক্ষণ। হয়ত তারা এখনও পুরোপুরি বুঝতে পারেনি যে বাবা আর কখনও ফিরবেন না।
এলাকাবাসী জানান, শিশু দুটি বর্তমানে অত্যন্ত অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের দাদি দায়িত্ব নিতে অক্ষম। দ্রুত কোনো সহায়তা না পেলে শিশু দুটির শিক্ষা, পুষ্টি ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
স্থানীয় সচেতন মহল, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অসহায় এই দুই শিশুর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিএসআরএমের নম্বরবিহীন কন্টেইনার লরির অবাধ চলাচল, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা
তারা মনে করেন, সামান্য সহযোগিতাই বদলে দিতে পারে মেহেদী ও মাইনুলের জীবন এবং নিশ্চিত করতে পারে তাদের শিক্ষা, খাদ্য ও একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ।
আজ তারা হয়ত খেলাধুলা আর দুষ্টুমিতেই মগ্ন। কিন্তু যখন তারা নিজেদের বাস্তবতা বুঝতে শিখবে, তখন হয়ত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে, এই পৃথিবীতে তাদের আপনজন কে?
দুই অবুঝ শিশু মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় আছি। সমাজের একটু সহানুভূতি, দায়িত্ববোধ এবং ভালোবাসাই তাদের জীবনকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।
>>> অসহায় দুই শিশুর দাদি রিজিয়া বেগমের বিকাশ/নগদ নাম্বারঃ ০১৩২৪৯৯৭৩৯৫
আরও পড়ুন: গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ৮,৫০০ পরিবার পাবে ৬০ হাজার টাকার শর্তহীন অনুদান: জিইউকে ও গিভডিরেক্টলির মহতী উদ্যোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন