১১:০৬ পি.এম
আগামী ১ জুলাই মাস থেকে পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণাটি দিয়েছে দেশটির সরকার। বাজেটটি খুব কাছেই, ফলে কাঙ্ক্ষিত এই বেতন গ্রেড নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীরা জানিয়েছেন, পে স্কেল সংক্রান্ত যেসব তথ্য এসেছে, তার সবই গণমাধ্যমের মাধ্যমে উঠে এসেছে। সরকারের মন্ত্রী ও এমপি, অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ এমনকি পে কমিশনে যুক্ত ব্যক্তিরাও এ বিষয়ে ন্যূনতম তথ্য শেয়ার করেননি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল।
তাহলে প্রশ্ন উঠছে, আগামী ১ জুলাই থেকে কি পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে? এবং বাস্তবায়ন হলে তা কিভাবে হবে, এ নিয়ে রয়েছেন নানা প্রশ্ন।
আরও পড়ুন: দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: আইনমন্ত্রী
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘মনের ভেতরে একটা ভয় থেকেই যাচ্ছে যে সরকার তো কিছু বলেনি। আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতি মুহূর্তে ব্রিফিং-বিবৃতি দেওয়া হলেও আসন্ন পে স্কেল নিয়ে আজ পর্যন্ত কিছুই দেওয়া হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দেয় অথবা অর্থসচিব দেয়, কিংবা আগে যারা সেভাবে দিয়েছিলেন; সেভাবে কিন্তু স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আমরা আজও পাইনি। যার ফলে কর্মচারীদের মধ্যে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে যে আসলেই কি পে স্কেল হচ্ছে?’
তিনি আরও বলেন, ‘যেই ১১ বছর আমরা অপেক্ষা করেছিলাম এই পে স্কেলটার জন্য এবং আমাদের যে প্রধানমন্ত্রী তিনিও বলেছেন তার নির্বাচনী ইশতেহারে যে আপনারা জানেন যে ক্ষমতায় এলে তারা পে স্কেল বাস্তবায়ন করবে। ৭ জুন এই সরকারের প্রথম বাজেট এবং আমরা জানি এবার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট হতে যাচ্ছে। সেখানে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য আসলে কতটুকু থাকবে সেটা নিয়ে আমরা খুবই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি এবং আশা করছি এই বাজেটেই আমাদের জন্য বরাদ্দ থাকবে, যাতে কর্মচারীদের এতদিনের আশা পূরণ হবে।
এদিকে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। তবে প্রথম ধাপে শতভাগ বেসিক বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছে তারা।
রবিবার (৩১ মে) আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য সচিব আশিকুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ১১ বছরে কর্মচারীদের বেতনে মৌলিক পরিবর্তন না এলেও দ্রব্যমূল্য ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এ কারণে অনেক কর্মচারী জীবিকার তাগিদে চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের জন্য লজ্জাজনক।
আরও পড়ুন: রাজধানীর পান্থপথ, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্টে ককটেল বিস্ফোরণ
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন তথ্য প্রচারিত হচ্ছে, এবং তিন ধাপে তিন বছরে নবম পে স্কেল বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির মতামত তুলে ধরা হয়েছে। অতীতের সব পে স্কেল প্রদানের পূর্বে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা প্রচলিত ছিল এবং দুই ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়ন হওয়ার সঙ্গে এর সমন্বয় করা হতো। প্রথম ধাপে শতভাগ বেসিক বাস্তবায়ন হতো, দ্বিতীয় ধাপে সব ভাতা।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পুরো নতুন বেতন কাঠামো তিনটি অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে। আগামী জুলাই মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেসিক বেতনের অর্ধেক অংশ পেতে শুরু করবেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি অর্ধেক বেসিক কার্যকর করা হবে। এরপর ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে নতুন পে স্কেলের আওতায় নির্ধারিত বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা ধাপে ধাপে চালু হবে।
জানা গেছে, আগামী ৭ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। সেদিন বিকেল ৩টায় রাষ্ট্রপতির আহ্বানে জাতীয় সংসদ ভবনে এ অধিবেশন শুরু হবে। আগামী ১১ জুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সংসদে পেশ করবেন। সেদিনই জানা যাবে পে স্কেলে বরাদ্দের বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য।
আরও পড়ুন: প্রবাসীরা ৭ দিনে পাঠালেন ১০ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা রেমিট্যান্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন