০৫:০৭ পি.এম
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিলে ২৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা জমা করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) শ্রমিক কল্যাণ ও দায়িত্বশীল করপোরেট কার্যক্রম অনুসরণে নিজেদের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি এ অর্থ জমা করেছে।
এদিন রাজধানীতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার (সিএইচআরও) সৈয়দা তাহিয়া হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর হাতে চেক হস্তান্তর করে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার। জমাকৃত অর্থ প্রতিষ্ঠানটির ২০২৫ সালের শ্রমিকদের লভ্যাংশ অংশগ্রহণ তহবিলের (ডব্লিউপিপিএফ) ১০ শতাংশ।
আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলাম: ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা জুলাইয়ের সাহসী সহযোদ্ধা
এ সময় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মন্তব্য করে বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধিতে শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য।
শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গ্রামীণফোনের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়মিতভাবে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটি কেবল আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা নয়, বরং দায়িত্বশীল কর্পোরেট আচরণের একটি অনন্য উদাহরণ।’
মন্ত্রী এ সময় আরো আশাব্যক্ত করেন যে, অন্যান্য দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানও গ্রামীণফোনকে অনুসরণ করে শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষায় এগিয়ে আসবে।
গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার সৈয়দা তাহিয়া হোসেন বলেন, ‘দায়িত্বশীল করপোরেট নাগরিক হওয়ার বিষয়টি গ্রামীণফোনের সার্বিক পরিচালন প্রক্রিয়ারই অংশ। আমাদের প্রতিশ্রুতি শুধু কানেক্টিভিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আমরা একটি নিরাপদ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেখানে আমাদের কর্মীরা প্রতিনিয়ত নতুন বিষয় শিখতে, অভ্যস্ত হতে এবং ভবিষ্যৎ-উপযোগী ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।’
আরও পড়ুন: মির্জা ফয়সল: সারের সমস্যা সমাধান, কৃষকরা আর ভুগবে না
তিনি বলেন, ‘এই প্রদানকৃত অর্থ কর্মী কল্যাণের প্রতি আমাদের দায়িত্ব এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা ওপর গ্রামীণফোনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই যৌথ পথচলার মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হলো দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, যারা এই পরিবর্তনশীল ডিজিটাল পরিবেশে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারবে এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’
বাংলাদেশ শ্রম আইনের অধীনে স্থানীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বছর শেষে তাদের মুনাফার ৫ শতাংশের এক-দশমাংশ শ্রম কল্যাণ তহবিলে জমা দেয়। যাত্রা শুরুর পর থেকে গ্রামীণফোন একটি দায়িত্বশীল করপোরেট কম্পানি এবং এই তহবিলের অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী হিসেবে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে ২০২৪ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ৩২৯ কোটি ৮৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৪৭ টাকা জমা দিয়েছে। আর ২০২৫ অর্থবছর এ তহবিলে আরো ২৪ কোটি ৬০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৬৫ টাকা তহবিলে জমা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ সময় গ্রামীণফোনের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হেড অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস অ্যান্ড কালচার মোহাম্মদ আওলাদ হোসোন, হেড অব কমপেনসেশন, বেনিফিটস অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স মোহাম্মদ খালেদ মৃধা, সিনিয়র ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস এক্সপার্ট মুহাম্মদ তাওহীদুল ইসলাম এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস এক্সপার্ট মো. হারুন অর রশিদ।
আরও পড়ুন: খেলাফত আন্দোলনের আহ্বান: জননিরাপত্তা জোরদার করতে সরকারের কাছে দাবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন