০৫:৩৬ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন মালয়েশিয়া সফরের প্রেক্ষিতে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যাপক প্রস্তুতির কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তুলকালাম সৃষ্টি করেছে।
নির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে, আগামী ২১ জুন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সফরসূচির অন্তর্ভুক্ত হিসেবে, ওই রাতেই তিনি সেখানে বসবাসরত প্রবাসী পেশাজীবীদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করতে পারেন।
পরদিন, অর্থাৎ ২২ জুন সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং বৈঠক শেষে তিনি কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে চীনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন।
আরও পড়ুন: এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়ন আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি, ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রবাসী কর্মীদের বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন উপলক্ষে মালয়েশিয়া বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো দেশটিতে ব্যাপক প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে।
দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ প্রবাসীরা ইতোমধ্যেই দেশটির প্রধান প্রধান শহরগুলিতে বরণ কর্মসূচি সম্পন্ন করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং অনেকেই মনে করছেন যে, এই সফরটি অত্যন্ত ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশা করছেন, এই সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের উন্নয়ন, প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল যৌথ বাহিনী
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরে মালয়েশিয়া হলো বিদেশী কর্মসংস্থানের দ্বিতীয় বৃহৎ গন্তব্য। এই কারণে, দেশটিতে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানো, কর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বোঝাপড়া আরও জোরদারকল্পে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধকরণের জন্য এই সফরে বিশেষ অনুরোধ জানানো হতে পারে। পাশাপাশি কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে সকল ধরনের দুর্নীতি এবং সিন্ডিকেট রোধে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা করা হবে।
বর্তমানে, দেশটিতে কয়েক লাখ বাংলাদেশি কর্মী বিভিন্ন খাতে কর্মরত আছেন এবং তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এই বাস্তবতা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়া বেছে নেয়াকে সরকার অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
আরও পড়ুন: ধর্মমন্ত্রীর আহ্বান: দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে ঐক্যবদ্ধ থাকুন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন