০৫:৩৩ পি.এম
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, কোন ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে না। সরকার প্রাথমিক থেকেই কক্সবাজারের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে কক্সবাজারের ঝিলংজা ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তার লক্ষ্যেই অতিরিক্ত ত্রাণ ও নগদ সহায়তার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সোমবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
তিনি আরও বলেন, সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় গত কয়েক দিনের বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ কার্যক্রম এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সমস্ত পরিবারকে সহায়তার জন্য সভায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত চাহিদা গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলার জন্য আরও অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকারের লক্ষ্য কেবল ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবন দ্রুত ফিরিয়ে আনা। আর এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতে সহায়তা, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নতুন করে নির্মাণ এবং কৃষি, মৎস্য ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
পাহাড়ধসে প্রাণহানির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী ব্যক্তিদের বিকল্প স্থানে জমি ও গৃহ নির্মাণের মাধ্যমে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আরও পড়ুন: নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ইয়াবাসহ আটক যুবদল নেতা মাসুদ বহিষ্কার
তিনি বলেন, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা কিংবা দখলের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং প্রভাবশালী মহলকেও এই ধরনের কর্মকাণ্ডের অনুমতি দেওয়া হবে না।
ত্রাণ কার্যক্রমের সমন্বয় প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, জনপ্রতিনিধি এবং বেসরকারি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সমন্বয়কে আরও জোরদার করা হবে।
স্লুইস গেট ও বেড়িবাঁধ সংস্কারের বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজার সফর করে ক্ষতিগ্রস্ত স্লুইস গেট ও বেড়িবাঁধ সরেজমিনে পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: কুয়াকাটায় ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা, চিকিৎসক নিহত
ত্রাণ বিতরণকালে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান এবং পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন