০৯:৪৮ এম
ম্যাকাইয়ে একে একে সব ব্যাটার ফিরেছেন। লাঞ্চে যাওয়ার সময়ে শেষ ব্যাটার হিসেবে ছিলেন শুধুমাত্র মেহেদী হাসান মিরাজ।
এমন কিছু হবে আশা ছিল হয়তো অনেকের।
তবে দ্বিতীয় সেশন শুরু হতে থাকতেই সমস্ত আশা ভেঙে যায়। অন্যান্যরা যেভাবে মনোপালট করেছেন, মিরাজও তেমন করলেন। ব্যক্তিগত ১১ রান নিয়ে বিরতিতে গিয়েছিলেন, কিন্তু ফিরে এসে আর রান যোগ করতে পারেন নি।
আরও পড়ুন: প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ
প্যাট কামিন্সের করা ২৫তম ওভারের তৃতীয় বলে থার্ড স্লিপে থাকা বিউ ওয়েবস্টারকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন।
ফিরতি ওভারে তাকে অনুসরণ করেছেন হাসান মাহমুদও। ব্যক্তিগত ১০ রান করে তিনি ফিরে যান জশ হ্যাজলউডের বলে। নবম ব্যাটার হিসেবে তাসকিন আহমেদ (১) কামিন্সের শিকার হলে সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার আশঙ্কা জাগে বাংলাদেশের।
সেই বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন তাইজুল ইসলাম এবং শরীফুল ইসলাম। দুই ইসলাম শেষ উইকেটে দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ২৫ রানের জুটি গড়েন। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রানে শরীফুল আউট হলে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেমে যায় ৬৪ রানে। এটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সর্বনিম্ন। বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর ৪৩ রানের।
এটি ঘটেছিল ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনা সদস্য গুরুতর আহত
ডারউইন টেস্ট জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ম্যাকাইয়ে খেলতে নেমে বিভিষীকাময় এক সেশন কাটানোর পর বাংলাদেশ। বাংলাদেশের কাছে ম্যাকাইয়ের টেস্ট অভিষেকে মিচেল স্টার্কের আগুন ঝরা বোলিং দেখেছিল। তার দুরন্ত বোলিংয়ে দলীয় ২১ রান করতেই ৬ উইকেট বিদায় নেয় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম সেশনের প্রথম ৫ উইকেটই নেন স্টার্ক। অন্য একটি উইকেট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের অধিদপ্তরে। লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ৩৫ রান করতে পারে।
এই ইনিংসের প্রথম বল থেকেই বাংলাদেশের বিপদ শুরু হয়। স্টার্কের পাঠানো ফুল লেন্থের বল খেলতে গিয়ে ক্যামেরন গ্রিনকে গালিতে ক্যাচ দিয়ে দেন সাদমান ইসলাম। ফিরতি ওভারে, প্রথম দুটি বলে তানজিদ হাসান তামিম এবং নাজমুল হোসেন শান্ত রানের খাতা খোলার আগে আউট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেন। যদিও পরে হ্যাটট্রিক পাননি তিনি।
আউট হওয়া প্রথম তিন ব্যাটারই ‘ডাক’ মারেন। ইনিংসের ৫ ওভারে মমিনুল হককেও আউট করেন স্টার্ক। ৯ রান করে তিনি ড্রেসিংরুমে ফিরে যান, আর সপ্তম ওভারে লিটন দাস এলবিডব্লিউয়েতে শূন্য রানে আউট হয়ে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন অজি পেসার। পরে শরীফুলের আউট হয়ে তিনি ইনিংসে ৬ উইকেট নেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের গভীর ও সম্মানজনক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়: মাহদী আমিন
মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করছেন মুশফিকুর রহিম। অভিজ্ঞ ব্যাটার একের পর এক ডিফেন্স করে ৪২ বল খেলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফিরে গেলেন। ব্যক্তিগত ৫ রানে প্যাট কামিন্সের বলে বোল্ড হন।
বাংলাদেশকে এমন ধ্বংসস্তূপে দাঁড় করানো স্টার্ক ৫ উইকেট নিয়ে ২২ বল খরচ করেছেন। তার ঐ বোলিং ইনিংসে একটি কীর্তির জন্ম দেন অস্ট্রেলীয় পেসার। বলের হিসেবে দ্রুততম ফাইফারে ৫ নম্বর স্থান অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। তবে দ্রুততমটি আগেই তার দখলে ছিল। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৫ উইকেট নিতে ১৫ বল লেগেছিল। ক্যারিবিয়ানরা অলআউট হয়েছিল ২৭ রানে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন