০৪:৫৪ পি.এম
নেত্রকোণার বারহাট্টার একটি বহুল আলোচিত ধর্ষণ মামলায়, ১৩ বছর পর আদালত রায় দিয়েছেন। রায়ে মামলা সংক্রান্ত একজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ডিএনএ পরীক্ষার ভিত্তিতে ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুকে আসামির বৈধ সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এভাবে তার পিতৃপরিচয় ও আইনগত অধিকার নিশ্চিত করেছেন আদালত।
এছাড়া, আদালত আসামির উপর এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. এমদাদুল হক এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেছেন।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দিরাইয়ে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
আদালত ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১ মার্চ রাতে, বারহাট্টা উপজেলার নিজ বসতঘরে তালাকপ্রাপ্ত নারীকে ধর্ষণ করেছেন আসামি হেলাল। বিষয়টি প্রকাশ করলে ওই নারীকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
এই ঘটনায় ২০১৩ সালের ১৩ জুলাই বারহাট্টা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যা পরবর্তীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পর ১১ অক্টোবর পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল।
ধর্ষণের শিকার ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি চারিদিকে জানাজানি হয়ে যায়। স্থানীয়ভাবে একাধিক বার সালিশ ও বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আসামি হেলাল ধর্ষণের ঘটনা এবং সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করেন। পরে আদালতের নির্দেশের মাধ্যমে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে প্রমাণিত হয় যে, শিশুটির জৈবিক পিতা হেলাল।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. নুরুল কবীর রুবেল বলেন, "ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির পিতৃত্ব নিশ্চিত হয়েছে। ফলে সে হেলালের আইনগত সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, পিতার সম্পত্তিসহ সব ধরনের আইনগত অধিকারের দাবিদার হবে।"
আরও পড়ুন: কসবায় দু'পক্ষের সংঘর্ষে জনজীবন বিপর্যস্ত
অভিযোগ দায়েরের এক বছর পর, মামলা চলাকালীন সময়ে ভুক্তভোগী নারী স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন। মায়ের মৃত্যুর পর ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুটি (যা বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী) আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় ১৩ বছর ধরে আদালতে পিতৃপরিচয় ও ন্যায়বিচারের জন্য চেষ্টা করে গেছে।
আদালত ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং ডিএনএ প্রমাণ সহ অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলেও জানা গেছে।
পাবলিক প্রসিকিউটর আরও উল্লেখ করেন, "এই রায়ের মাধ্যমে শুধু একজন ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিত হয়নি, বরং একটি শিশু তার সামাজিক স্বীকৃতি ও আইনগত অধিকার ফিরে পেয়েছে। এটি ভবিষ্যতে এই ধরনের মামলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।"
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারী আস্তানায় ৩ মরদেহের সন্ধান মেলেনি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন