০৯:৩৮ পি.এম
ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে কুর্দি রাজনৈতিক সংগঠন কমালা পার্টির সদর দফতরকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
মঙ্গলবার বিকালে এরবিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দুলি আলান এলাকায় সংগঠনটির সদর দফতরে উক্ত হামলা হয়েছে বলে কমালা পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
কমালা পার্টির মুখপাত্র আমজাদ পানাহি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র মঙ্গলবার বিকালে সংগঠনটির সদর দফতরে আঘাত হানে। তবে আগাম প্রস্তুতি ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া থাকায় দলের সদস্যরা নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে কৃষককে কুপিয়ে জখম, প্রধান আসামি জাকির গ্রেফতার
হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
ইরানের কুর্দি বিরোধীদের লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। কমালা, যা ‘কুর্দিশ টোয়েলার্স পার্টি’ হিসেবেও পরিচিত, ইরানের কুর্দিদের অধিকার আদায়ে সক্রিয় একটি কুর্দি রাজনৈতিক বিরোধী সংগঠন। এই সংগঠনটি দীর্ঘকাল ধরে ইরান সরকারের বিরোধিতা করে আসছে এবং অতীতে অনেকবার ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
ইরানের সীমান্তের বাইরে, ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে কমালা ও অন্যান্য ইরানবিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীর ঘাঁটি রয়েছে। তেহরান এই সংগঠনগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।
কমালা পার্টির মুখপাত্র পানাহির দাবি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সংগঠনটির সদর দফতর ও বিভিন্ন ক্যাম্প লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনী ১০২টির অধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে।
আরও পড়ুন: সারজিস আলম: গণহত্যাকারী হাসিনার অলীক ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসবে না
তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সর্বশেষ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুই সপ্তাহ আগেও একটি হামলা ঘটে। কমালা পার্টির ওপর সর্বশেষ হামলার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সংগঠনটির আলানা উপত্যকার এক ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল।
ওই হামলায় কমালা পার্টির ছয় সদস্য আহত হন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
এর পর আবারও সংগঠনটির সদর দফতর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলো। ফলে ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে অবস্থানরত ইরানবিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর ওপর তেহরানের সামরিক চাপ আরও বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জিয়া সেদিন তাহেরের সাথে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে গেলে ফিরে আসতেন না: ব্রি. সাখাওয়াত
ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের সীমান্তবর্তী ইরাকের কুর্দি অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে তেহরানবিরোধী কুর্দি সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ইরানের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী ইরানের ভেতর হামলা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।
অন্যদিকে, কুর্দি সংগঠনগুলো দাবি করে যে, তারা মূলত ইরানে কুর্দিদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে।
ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার এবং কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের জন্য এই ধরনের হামলা একটি স্পর্শকাতর বিষয়। কারণ, ইরানের সামরিক অভিযান ইরাকের ভূখণ্ডে সংঘটিত হওয়ার কারণে এটি দেশটির সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
সর্বশেষ হামলার মাধ্যমে ইরান-ইরাক সীমান্তবর্তী কুর্দি এলাকায় চলমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা
আরও পড়ুন: ঢাবিতে ছাত্রদলের আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন