০২:২১ এম
নড়াইলে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারণে গোলাম ফারুক নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকার মানুষ। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে কালিয়া উপজেলার শুক্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় ‘বাবরা-হাচলা ইউনিয়নবাসী’র ব্যানারে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে একই স্থানে এলাকার নির্বিশেষভাবে সকল মানুষের উপস্থিতিতে একটি বড় ধরনের মাদকবিরোধী সমাবেশ আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, চলতি মাসের ৯ জুন সকালে শুক্তগ্রামের গোলাম ফারুক যখন বাড়ির পাশে গরু চড়াচ্ছিলেন, তখন চিহ্নিত মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের দ্বারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১৪ জুন ৭ জনকে অভিযুক্ত করে কালিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ফারুক। তবে মামলার প্রতিষ্ঠিত ১০ দিন পরেও এজাহারনামীয় কোনো আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি। অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় বিভিন্ন বয়সের শত শত মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করতে রাস্তায় নেমে পড়েছেন।
আরও পড়ুন: বুকব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, 'এলাকার আলমগীর সরদার, মিজান সরদার এবং বিল্লাল সরদারসহ গোটা পরিবার মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তাদের কারণে পুরো এলাকা আজ মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে। শুধু মাদক নয়, তারা দেহ ব্যবসাসহ সব ধরনের অপকর্মের রাজত্ব কায়েম করেছে। তাদের ক্ষমতার কারণে এতদিন কেউ মুখ খুলতে পারেনি। ফারুক যখন এই সর্বনাশা মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন, তখন তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আমরা এই মাদক চক্রের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।'
বক্তারা আরো জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে এলাকার তরুণ সমাজ আজ ধ্বংসের মুখোমুখি। তাঁরা এলাকার শান্তি ফিরিয়ে আনতে এই অপশক্তির পূর্ণ বিনাশ চান।
মানববন্ধনের পূর্বে শুক্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত মাদকবিরোধী সমাবেশে বক্তারা বলেন, শুক্তগ্রামে মাদকের থাবা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই গ্রামটিকে একটি রুট হিসেবে ব্যবহার করে নড়াইলের লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার নানা অঞ্চলে মাদক প্রবেশ করছে। এই সমস্যা সমাধানে পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাবরা-হাচলা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ইয়ার আলী মোল্যা, ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার রহমান খান, আব্দুল্লাহ সরদার এবং কালিয়া উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এনায়েত মোল্যাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় পুলিশের অভিযানে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, ৪ গ্রেফতার
মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী। তিনি বলেন, 'মাদক দমনের ব্যাপারে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে সমাজ থেকে মাদক কারবারিদের উপড়ে ফেলতে হলে সাধারণ জনগণকে তথ্য দিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।'
পুলিশের সদস্যদের মাদক অথবা অপকর্মে জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ওসি বলেন, 'আমাদের কোনো সদস্য মাদক কারবারে জড়িত নয়। তবে যদি নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তা আমাকে বা পুলিশ সুপার (এসপি) স্যারকে জানান। সত্যতা প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যায়ের সাথে আপস করে অনেক পুলিশ সদস্য ইতোমধ্যে চাকরি হারিয়ে বাড়ি চলে গেছেন।'
সন্তানদের সঠিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর সন্তানরা নিয়মিত পড়ার টেবিলে আছে কিনা এবং নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে কিনা, তা তদারকি করতে হবে।
এদিকে মানববন্ধন ও সমাবেশে আলমগীর সরদার, মিজান সরদার এবং বিল্লাল সরদারের পরিবারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: অক্টোবর মাসে সিলেটের সড়কে প্রাণ গেল ২৭ জনের
গোলাম ফারুকের ওপর হামলার মামলার বিষয়ে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী জানান, 'হামলার ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি, তবে তাদের ধরার জন্য পুলিশের চিরুনি অভিযান এবং চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন