০৫:২৬ পি.এম
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন সমবায় সমিতিতে জমা রাখা বিপুল পরিমাণ আমানতের টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভক্তি ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে এলাকার সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে এবং পুরো এলাকায় নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর থেকে আন্দোলনকারীরা উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। টানা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা এ কর্মসূচিতে আন্দোলন কমিটির একাংশের নেতৃত্বে সাবেক আহ্বায়ক শিবলুল বারী রাজুর অনুসারীরা সক্রিয় ছিলেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে সমবায় সমিতিগুলোতে জমা রাখা অর্থ ফেরতের দাবিতে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, একাধিক সমবায় সমিতিতে জমা রাখা অর্থ ফেরত না পাওয়ায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদানসহ নানাবিধ উদ্যোগ নিলেও কার্যকর কোনো সমাধান না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে উপজেলা ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
আরও পড়ুন: ঢাকায় গিয়ে ৫ দিন ধরে নিখোঁজ শিশু ইমাম, সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি
বিকেলের দিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন আন্দোলনকারীদেরই একটি অংশ ভিন্ন অবস্থান নেয়। মাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি পক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে শিবলুল বারী রাজুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটে এবং রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ সামনের আসে।
আন্দোলনকারীদের একাংশের অভিযোগ, শিবলুল বারী রাজু পূর্বে গ্রাহক টাকা উদ্ধার কমিটির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক কারণে তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেছেন, যা আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করেছে।
অন্যদিকে শিবলুল বারী রাজু ও তার পক্ষের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, যা আন্দোলনের ভেতরে বিভক্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
জেলা সমবায় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতিগুলোতে গ্রাহকদের প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। তবে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের দাবী, শুধু মাদারগঞ্জ উপজেলাতেই প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে, যার মধ্যে আল-আকাবা, শতদল, স্বদেশ, নবদীপ, হলিটার্গেট ও রংধনুসহ একাধিক সমিতির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কোম্পানীগঞ্জে মাটিবাহী ট্রাকের চাপায় মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু
এছাড়া জামালপুর জেলার ইসলামপুর, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ী ও জামালপুর সদর উপজেলাতেও বহু গ্রাহক এই সমবায় সমিতিগুলোর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে তাঁদের অভিযোগ রয়েছে। টাকা ফেরত না পাওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বাড়ছে।
জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, গ্রাহকদের আমানত ফেরত পাওয়ার বিষয়টি তিনি সমর্থন করেছেন, তবে তিনি অভিযোগ করেন যে এ বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আন্দোলনের সময় তাঁর ও রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অশালীন স্লোগান দেওয়া হয়েছে, যা দুঃখজনক।
অন্যদিকে আন্দোলন কমিটির একাংশের সংগঠক মাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, উপজেলা চত্বরে একাংশ অফিস তালাবদ্ধ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, সমবায় সমিতির আর্থিক বিষয়গুলো সমবায় কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাজার কোটি টাকার অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব নয়। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যেন না হয়, সেটাই এখন মূল দায়িত্ব।
আরও পড়ুন: সিলেটে যান চলাচলে নতুন বিধিনিষেধ, রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী জানান, সমবায় সমিতির টাকা উদ্ধার কমিটির দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যার ফলে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছে। তিনি বলেন, তিনি মাত্র ছয় মাস ধরে দায়িত্বে আছেন এবং এত বড় অঙ্কের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সরাসরি কোনো ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়।
জামালপুরের পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিন জানান, গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলনকারীরা উপজেলা প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন। প্রশাসনের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলে যে কোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ ঘটতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন