০৫:০৯ পি.এম
মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া কী হবে, সেটি ভারতের নিজস্ব বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। চিফ প্রসিকিউটর জানান, ভারত আদালতের অনুমোদন নিয়ে শেখ হাসিনাকে পাঠাবে, অথবা বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে হস্তান্তর করবে, এই সিদ্ধান্ত ভারত নিজেই নেবে।
সম্প্রতি ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করতে হলে ভারতের আদালতের অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ভারতের আদালতের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে পাঠানোর ব্যাপারটি নাকি সরকারের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হবে, সেটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
আরও পড়ুন: ঢাবিতে ছাত্রদলের আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত
তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত আনার জন্য বাংলাদেশ পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। এখন এটি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়; তারা কোর্টের অনুমোদন নেবে, না সরকারের অনুমোদন দিয়ে পাঠাবে, এটা তাদের ব্যাপার।
ভারতের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর এর বেশি মন্তব্য করতে চাননি। তিনি আরও বলেন, ভারতীয় আইনে এ ধরনের প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, সেটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করার বিষয় নয়।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে মো. আমিনুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি ইতোমধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। এজন্য তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কারণ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অনেক মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং একটিতে তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত। তিনি নিজেও জানিয়েছেন যে, ডিসেম্বরে তিনি আসবেন। আমাদের মনে হচ্ছে, ইন্ডিয়ান গভর্নমেন্টের উচিত তাকে এর আগে পাঠানো।
আরও পড়ুন: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মুছে ফেলায় ছাত্রশিবিরের প্রতিবাদ
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আদালত থেকে শেখ হাসিনা দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা উচিত। তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। এখানে ভারত কোন আইনি কাঠামো অনুসরণ করবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন