০৯:১৮ পি.এম
বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল বার্ষিক বিনিময় কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান।
এ প্রস্তাব তিনি বুধবার নেপালের বসন্তপুরে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান কাঠমান্ডু দরবার স্কয়ারে ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দানকালে দেন।
বাংলাদেশ-নেপাল ফটো জার্নালিস্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে যৌথভাবে ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ২০২৬ আয়োজন করেছে নেপালের ন্যাশনাল ফোরাম অব ফটো জার্নালিস্টস (এনএফপিজে) এবং বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ)।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে কৃষককে কুপিয়ে জখম, প্রধান আসামি জাকির গ্রেফতার
এ উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব, পেশাগত সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক আদান প্রদান এবং পর্যটন প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশ্ব আলোকচিত্র দিবসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ প্রদর্শনী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক, চীনা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উপ-পরিচালক এবং নেপাল ও চীনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
রাষ্ট্রদূত আলোকচিত্রকে যোগাযোগ ও অভিব্যক্তির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্ব আলোকচিত্র দিবসে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানে এ প্রদর্শনীর আয়োজন নেপালি দর্শনার্থীদের বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিয়েছে।
মো. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার গভীর সাংস্কৃতিক সহযোগিতার কথা স্মরণ করে দুই দেশের অভিন্ন মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সাদৃশ্যের ওপর আলোকপাত করেন।
আরও পড়ুন: সারজিস আলম: গণহত্যাকারী হাসিনার অলীক ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসবে না
তিনি বাংলাদেশ থেকে নেপালে পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান ভ্রমণের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
রাষ্ট্রদূত আরও দুটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেন দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও গভীর করার জন্য।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের আলোকচিত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, সংগীতশিল্পী, লেখক, শিল্পী এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মীদের একত্রিত করার লক্ষ্যে একটি বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল বিনিময় কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তাব দেন।
এ কর্মসূচির আওতায় দুই দেশে পর্যায়ক্রমে যৌথ প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চলচ্চিত্র উৎসব, আলোকচিত্র বিনিময় এবং কর্মশালার আয়োজন করার সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: জিয়া সেদিন তাহেরের সাথে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে গেলে ফিরে আসতেন না: ব্রি. সাখাওয়াত
বাংলাদেশ ও নেপালের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটন গন্তব্যগুলোর প্রচারে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সমসাময়িক গণমাধ্যমের অধিকতর ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন যে, দুই দেশের ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনকে যৌথভাবে পর্যটন প্রচারণামূলক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
এতে দুই দেশের নয়নাভিরাম পর্যটন আকর্ষণগুলো তুলে ধরা যাবে।
এ বিষয়ে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাস সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
বিশ্ব আলোকচিত্র দিবস উপলক্ষে প্রদর্শনী আয়োজনের জন্য এনএফপিজে ও বিপিজেএকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রদর্শনী বাংলাদেশ ও নেপালের জনগণের মধ্যে আরও বেশি পারস্পরিক যোগাযোগ, দ্বিমুখী পর্যটন, পেশাগত সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব বৃদ্ধিতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজার সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আশেক উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান
এরপর রাষ্ট্রদূত চায়না সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আয়োজিত অপর এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে গেস্ট অন অনার হিসেবে যোগ দেন।
এ সময় তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন এবং অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে প্রদর্শনীর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন