০৯:২৮ এম
বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ, কারণ গণবিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধ টানা ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা তার পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছে এবং আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
শনিবার (২০ জুন) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি জানান, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার সকল পথ শেষ হয়ে যাওয়ার পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
লাতিন আমেরিকার এই দেশটি গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ একটি নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ‘বলিভিয়ান ওয়ার্কার্স সেন্ট্রাল’ (সিওবি) গত মে মাসের শুরুতে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করে।
আরও পড়ুন: নবনির্বাচিত সেনেটর এল-সায়েদ মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত চান
শুক্রবার (১৯ জুন) সরকার সিওবি-র সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সরকার কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণ না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর সিওবি-র পক্ষ থেকে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে, তবে সব খাতের শ্রমিকরা সন্তুষ্ট ছিলেন না।
সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চাপারে অঞ্চলের শ্রমিক গোষ্ঠী ও কোকা চাষিরা এই চুক্তিকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন। তারা চুক্তি অমান্য করেই রাস্তা অবরোধ ও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০টি জায়গায় অবরোধ বজায় রয়েছে।
টানা দেড় মাস ধরে চলা এই আন্দোলনের কারণে বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজসহ প্রধান শহরগুলোতে জ্বালানি, খাদ্য ও জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীকে রাস্তায় নামার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি তীব্রভাবে স্পষ্ট করেছেন, যারা অবরোধ ধরে রেখেছে বা সহিংসতা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় শ্রম আন্দোলনের নামে হামলায় শ্রমিক মো. সেলিম গুরুতর আহত
মধ্য-ডানপন্থী নেতা রদ্রিগো পাজ মাত্র সাত মাস আগে বলিভিয়ার ক্ষমতায় আসেন। তার এই জয়ের মাধ্যমে দেশটিতে দীর্ঘ ২০ বছরের সমাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটেছিল। তবে ক্ষমতা গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রমিক, কৃষক, খনি শ্রমিক ও শিক্ষকরা তার অর্থনৈতিক সংস্কারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন। প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, এই বিক্ষোভে মাদক-সন্ত্রাসী এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকদের হাত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন