০১:২৮ এম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে নতুন আলোচনার মূলে রয়েছে একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক প্রস্তাব। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হলে ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ ও সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অর্থনীতি ও অবকাঠামোর পুনর্গঠনের জন্য এই তহবিল ব্যবহার হতে পারে। সড়ক, বিদ্যুৎব্যবস্থা, শিল্পকারখানা এবং বিভিন্ন শহরের উন্নয়নকাজ এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এটি একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল হবে। বিভিন্ন দেশ এতে অর্থায়ন করতে পারবে এবং যুক্তরাষ্ট্র এ প্রক্রিয়া সহজ করতে ভূমিকা রাখবে। টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারক অনুমোদিত হলে পরবর্তী ৬০ দিনের প্রাথমিক আলোচনা পর্বে তহবিলের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে কথা হবে।
আরও পড়ুন: দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হোন, প্রয়োজনে টিকিট দেব: শেখ হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী
আলোচনায় থাকা খসড়া চুক্তিতে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি অন্যতম প্রধান প্রস্তাব হিসেবে রয়েছে। একইসঙ্গে একটি 'অনাক্রমণ চুক্তি'-ও থাকতে পারে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।
মধ্যস্থতাকারীদের মতে, এই উদ্যোগ বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি পরিকল্পনার অংশ হতে পারে এবং এতে লেবাননের সংঘাতের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হতে পারে। একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম মজুত ও সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা চলছে। আলোচনার সময় ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ সীমিত বা স্থগিত করতে পারে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
খসড়া প্রস্তাবে ইরানকে সীমিত পরিসরে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ, বিশেষ করে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড়ের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে নিহত সাবেক বিজিবি সদস্য খোরশেদ আলমের দাফন সম্পন্ন
এদিকে আলোচনা পরিচালনার দ্বিতীয় ধাপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত। বর্তমানে দেশটির কাছে প্রায় ৯৭০ পাউন্ড উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং প্রায় ১০ টন অপেক্ষাকৃত কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় সংরক্ষণ, ঘনত্ব কমানো বা আংশিক বিদেশে পাঠানোর বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন