প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একটি নতুন আইনি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ টাকার বিনিময়ে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গণমানুষের আগে ধনীদের কাছে বিক্রি করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
যে দুটি সংস্থা এই মামলা করেছেন, তাদের নাম হলো ‘দ্য ইন্টারসেপ্ট’ এবং ‘ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন’। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অপব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে লাভবান হচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অসাংবিধানিক।
মামলার কেন্দ্রবিন্দু হলো ‘ট্রুথ এপিআই’ নামে একটি বিশেষ সাবস্ক্রিপশন বা গ্রাহক সেবা। এই সেবার আওতায়, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি মাসে ১ লাখ ডলার (প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা) ফি দেয়, তবে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং সরকারের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের পোস্ট বা সরকারি ঘোষণা সাধারণ জনগণের আগেই পেতে পারেন।
ধরি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নতুন শুল্ক বা ট্যাক্স তেলের ওপর আরোপ করতে যাচ্ছেন। তখন তিনি নিয়ম অনুযায়ী এই খবরটি তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে পোস্ট করবেন। এই পরিস্থিতিতে, যারা ‘ভিআইপি’ গ্রাহক হিসেবে মাসে ১ লাখ ডলার পরিশোধ করেছেন, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ খবরটি সাধারণ মানুষের কয়েক মিনিট বা কয়েক সেকেন্ড আগে পেয়ে যাবেন। এই সামান্য সময়ের সুযোগ ব্যবহার করে বড় বড় ব্যবসায়ী বা শেয়ার বাজারের ব্রোকাররা তেল সংক্রান্ত শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন এবং ফলস্বরূপ কোটি কোটি টাকা লাভ করতে পারবেন। যখন অবশেষে সাধারণ মানুষ খবরটি জানতে পারবেন, তখন বড় ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে নিজেদের ফায়দা লুটে নিবেন।
যেহেতু ট্রাম্প নিজে ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মটির প্রধান মালিক, তাই এই সাবস্ক্রিপশন থেকে আসা বিপুল পরিমাণ অর্থ সরাসরি তার প্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছে। ট্রাম্প মিডিয়ার কর্মকর্তারাও এটিকে একটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা হিসেবে প্রচার করতে শুরুর করেছেন।
এছাড়াও, ইতোমধ্যে বিভিন্ন বড় বড় আর্থিক সংবাদমাধ্যম এবং ট্রেডিং ফার্ম এই সেবাটি কিনেছে বলে জানা গেছে। ডেমোক্র্যাট নেতাদের পক্ষ থেকে এর কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে এবং তারা বলেছেন, এটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়ে ধনীদের বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি করছে।
মামলাকারীরা আদালতের কাছে আবেদন করেছেন যেন এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়। একই সাথে, যতদিন অর্থের বিনিময়ে এই ধরনের বিশেষ সুবিধা বিক্রি করা হবে, ততদিন পর্যন্ত সরকারি ঘোষণার কাজে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করারও দাবি জানানো হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস কিংবা ট্রাম্প মিডিয়া, এই মামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন