ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

জোরালো হচ্ছে ‘এল নিনো’, চরম দুর্যোগের শঙ্কা


জোরালো হচ্ছে ‘এল নিনো’, চরম দুর্যোগের শঙ্কা

জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করে জানিয়েছে, ‘এল নিনো’ এখন শুরু হয়েছে এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি দ্রুত শক্তিশালী রূপ গ্রহণ করবে। এর ফলস্বরূপ, চলতি বছরের ‘এল নিনো’ আবহাওয়াগত পরিস্থিতির সামগ্রিক শক্তির দিক থেকে অতীতের সকল রেকর্ডের চেয়েও বেশি হয়ে যাবে। এর প্রভাবে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে খরা, বন্যাসহ অন্যান্য চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এল নিনোর ফলে মধ্য ও পূর্ব বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধারায় পরিবর্তন হয়। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর এল নিনো ঘটে এবং এর স্থায়িত্ব প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস হয়। এল নিনো ও এর বিপরীত অবস্থা ‘লা নিনা’ মধ্যে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন ঘটে, মাঝে থাকে নিরপেক্ষ অবস্থা।

ডব্লিউএমও’র বরাত দিয়ে জেনেভা থেকে ৩ জুলাই এএফপি জানিয়েছে, জলবায়ুবিষয়ক এই প্রাকৃতিক ঘটনাটি চলতি বছরে দ্রুত তীব্রতার দিকে যাচ্ছে। তাই সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলার জন্য দেশগুলোকে এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রযুক্তি জায়ান্টদের ইউক্রেনীয়দের রক্তের বিনিময়ে ব্যবসার অভিযোগ

ডব্লিউএমওর মাসিক ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট’-এ বলা হয়েছে, ‘জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী অবস্থায় পৌঁছাবে।’ সংস্থাটি এল নিনোকে দুর্বল, মাঝারি, শক্তিশালী এবং অত্যন্ত শক্তিশালী - এই চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি তৃতীয় স্তর অর্থাৎ ‘শক্তিশালী’ পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাবে।

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, ‘ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং আগামী কিছু মাসের মধ্যে এটি দ্রুত শক্তিশালী হবে। এর ফলে বিশ্বের অনেক স্থানে চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো ঘটার সম্ভাবনা বাড়বে।’

ডব্লিউএমওর জলবায়ুবিজ্ঞানী আলভারো সিলভা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত মাসের তুলনায় এখন অনেক বেশি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে যে বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। যদি ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসে দেখা যায় এটি আরও তীব্র রূপ নেবে, তাহলে আগামী মাসগুলোতে ডব্লিউএমও নতুন হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করবে।

জেনেভাভিত্তিক সংস্থাটি জানায়, বিভিন্ন বৈশ্বিক জলবায়ু কেন্দ্রের মডেলভিত্তিক পূর্বাভাসে মধ্য ও পূর্ব বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ধারাবাহিক ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ই-কমার্সে রিমার্কের শক্ত অবস্থান, বিশ্ববাজারে যাচ্ছে হাজারো পণ্য

ডব্লিউএমও’র মতে, গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ অঞ্চলে মৌসুমি গড় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বাড়তে পারে। উত্তরের গোলার্ধের শরৎকালজুড়ে এল নিনো আরও শক্তিশালী হতে থাকবে এবং এর প্রভাব বিশ্বের অনেক অংশে বিস্তৃত হবে।

সবশেষ এল নিনোর প্রভাবে ২০২৩ সাল রেকর্ডের দ্বিতীয় উষ্ণতম বছর ছিল। ২০২৪ সাল ছিল ইতিহাসের উষ্ণতম বছর, যখন বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব (১৮৫০-১৯০০) সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হয়। এল নিনো সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে সর্বোচ্চ তীব্রতা পায়, তবে এর ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব সাধারণত পরে আরও স্পষ্ট হয়।

সিলভা আরও উল্লেখ করেন, এল নিনোর প্রভাব চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত এবং ২০২৭ সালেও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হবে। কৃষি ও স্বাস্থ্যসহ জলবায়ু-সংবেদনশীল খাতগুলোকে প্রস্তুত রাখার জন্য আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান ডব্লিউএমও।

সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো জানাচ্ছেন, মানুষের জীবন রক্ষা ও অর্থনীতি ও সমাজে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এসব আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এল নিনো ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং দ্রুত শক্তিশালী হবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে বহু অঞ্চলে খরা, অতিবৃষ্টি, স্থলভাগে তাপপ্রবাহ এবং সমুদ্রে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের ঝুঁকি আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন: ভ্যান্সকে গালিবাফের খোঁচা: বসকে এসব বলছেন না কেন?

ডব্লিউএমও’র হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ অক্ষাংশের ৬০ ডিগ্রি থেকে উত্তর অক্ষাংশের ৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় সকল জনবসতিপূর্ণ স্থলভাগে সাধারণের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করার সম্ভাবনা পর্যাপ্ত।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়া সম্ভাব্য। অন্যদিকে ভারতীয় উপমহাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

ডব্লিউএমও জানাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনোর দফায় দফায় সৃষ্টি বা তীব্রতা বৃদ্ধির কোনো প্রমাণ নেই। উষ্ণতর সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডল চরম আবহাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও আর্দ্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে, তাই জলবায়ু পরিবর্তন এল নিনোর প্রভাবকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকালে এল নিনোর কারণে উষ্ণ সমুদ্রের পানি মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি বাড়াতে পারে। বিপরীতে, আটলান্টিক মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি ও বিকাশ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় অর্থায়ন করবে সরকার: মাহদী আমিন

এদিকে বৃহস্পতিবার পেরু এল নিনোজনিত ভারী বৃষ্টিপাতের ‘আসন্ন ঝুঁকির’ কারণে দেশের ১ হাজার ৮০০টি পৌরসভার মধ্যে ৮০০টিতে ৬০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। দেশটিতে ৯৩ লাখেরও বেশি মানুষ বন্যা ও ভূমিধসের অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে সতর্ক হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব:

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: এল নিনোর বছরগুলোতে এশিয়ার অনেক অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে শুষ্ক পরিস্থিতি ও খরা দেখা দেয়। চলতি বছরের এল নিনো দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বায়ুকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, যার কারণে ভারতসহ উপমহাদেশের অন্যান্য অংশে কৃষিকাজের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বৃষ্টিপাত কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারতীয় কৃষি কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে পরিস্থিতি মোকাবিলার জরুরি পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন।

অস্ট্রেলিয়া: এল নিনোর কারণে অস্ট্রেলিয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে উষ্ণ পরিস্থিতি বিরাজমান থাকে, যা সেখানে তীব্র খরা, তাপপ্রবাহ ও দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি করে।

আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের দাবি, মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলায় জড়িত মাদক কারবারিরা

আফ্রিকা: আফ্রিকার ‘হর্ন অফ আফ্রিকা’ অঞ্চলে এর প্রভাবে বৃষ্টিপাত বেড়ে গেলেও দক্ষিণ, পশ্চিম, মধ্য ও পূর্ব আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সাধারণত স্বাভাবিকের চেয়ে শুষ্ক ও খরা পরিস্থিতি হবে।

দক্ষিণ আমেরিকা: উপকূলীয় পেরু ও ইকুয়েডরসহ পশ্চিম দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। অপরদিকে, উত্তর ব্রাজিলে শুষ্ক আবহাওয়া দেখা দেবে, যা আমাজন বনে দাবানলের বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপের সবচেয়ে সাশ্রয়ী দেশ কোনটি, জানুন ভিসা পাওয়ার উপায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৩ এম


ইউরোপের সবচেয়ে সাশ্রয়ী দেশ কোনটি, জানুন ভিসা পাওয়ার উপায়

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান অঞ্চলের দেশ আলবেনিয়া এখন ধীরে ধীরে ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সাশ্রয়ী গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। এটি কম খরচে উন্নত জীবনযাত্রা, মনোমুগ্ধকর সমুদ্রসৈকত, পাহাড়ি সৌন্দর্য, ডিজিটাল নোম্যাডদের জন্য বিশেষ সুযোগ এবং তুলনামূলক সহজ আবাসন ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বিশেষভাবে যারা ইউরোপে পড়াশোনা, রিমোট চাকরি, ব্যবসা বা দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য আলবেনিয়া একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারে।

আলবেনিয়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশ। ইওনিয়ান সাগরের তীরে অবস্থিত আলবেনিয়ান রিভিয়েরা-এর কসামিল, সারান্দা ও ধেরমির মতো সমুদ্রসৈকত স্বচ্ছ নীল পানির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে উঠেছে। অনেক পর্যটক একে গ্রিস বা ইতালির তুলনায় অনেক কম খরচে উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের আলবেনিয়ান আল্পস ট্রেকিংপ্রেমীদের জন্য একটি স্বর্গ হিসেবে পরিচিত। থিথ ও ভালবোনা জাতীয় উদ্যানের পাহাড়, নদী এবং সবুজ বনভূমি ইউরোপের অন্যতম সুন্দর প্রাকৃতিক অঞ্চল হিসেবে ধরা হয়।

এ ছাড়া, ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের শহর বেরাত ও জিরোকাস্তার মধ্যযুগীয় স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের জন্য পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।

কত খরচে চলা সম্ভব? ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় আলবেনিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। রাজধানী তিরানার কেন্দ্রের বাইরে একটি এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া সাধারণত ২৫০ থেকে ৩৫০ ইউরোর মধ্যে পাওয়া যায়। উপকূলীয় পর্যটন এলাকায় মৌসুমভেদে ভাড়া কিছুটা বাড়তি হতে পারে।

স্থানীয় রেস্তোরাঁয় ৩ থেকে ৭ ইউরোর মধ্যে খাবার পাওয়া যায়। বাসাভাড়া, খাবার, পরিবহন, ইন্টারনেট ও ইউটিলিটি বিলসহ একজন প্রবাসীর মাসিক গড়ে ৭০০ থেকে ৯০০ ইউরো ব্যয় হতে পারে।

বাংলাদেশিরা যদি আলবেনিয়ায় যেতে চান, তারা আলবেনিয়ার ই-ভিসা ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। শর্ট-টার্ম (টাইপ ‘সি’) ভিসার জন্য প্রয়োজন হবে বৈধ পাসপোর্ট, নির্ধারিত সাইজের ছবি, রিটার্ন এয়ার টিকিট, হোটেল বুকিং, গত ১২ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং চাকরিজীবীদের জন্য এনওসি অথবা ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স।

সাধারণত ১৪ থেকে ১৮ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। বিশেষ ক্ষেত্রে সময় আরও কিছুটা বেশি লাগতে পারে।

ডিজিটাল নোম্যাডদের জন্য আলবেনিয়া ইউনিক পারমিট সুবিধা চালু করেছে। রিমোট চাকরি বা ফ্রিল্যান্সিং করেন এমন বিদেশিদের জন্য এই সুবিধাটি রয়েছে। উপযুক্ত আবেদনকারীরা প্রাথমিকভাবে এক বছরের অনুমতি পেয়ে থাকেন, যা পরে নবায়নের মাধ্যমে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।

এর জন্য আবেদনকারীকে আলবেনিয়ার বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মচুক্তি, নির্ধারিত ন্যূনতম মাসিক আয়, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও স্বাস্থ্যবিমার প্রমাণ দেখাতে হয়।

দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের ক্ষেত্রে প্রথমে টাইপ ‘ডি’ ভিসার মাধ্যমে প্রবেশ করে রেসিডেন্স পারমিট নিতে হয়। বর্তমান আইন অনুযায়ী, বৈধভাবে টানা সাত বছর বসবাসের পর একজন বিদেশি নাগরিক আলবেনিয়ার নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ জন্য আলবেনিয়ান ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান এবং অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকার প্রমাণ দরকার। আলবেনিয়ার কোনো নাগরিককে বিয়ে করলে নাগরিকত্ব পাওয়ার সময়সীমা আরও কমে আসে। উল্লেখ্য, দেশটি দ্বৈত নাগরিকত্বেরও অনুমতি দেয়।

আলবেনিয়া বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা একটি প্রার্থী দেশ। কম জীবনযাত্রার ব্যয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ডিজিটাল নোম্যাডবান্ধব নীতি এবং সহজ আবাসন ব্যবস্থার কারণে দেশটি দিন দিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

যারা সীমিত বাজেটে ইউরোপে নতুন জীবন, ব্যবসা বা রিমোট ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য ২০২৬ সালে আলবেনিয়া একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হতে পারে। ভিসা নীতি, আয়ের শর্ত এবং অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদন করার আগে আলবেনিয়ার সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ এশিয়ায় ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের: আঙ্কটাড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৬ এম


দক্ষিণ এশিয়ায় ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের: আঙ্কটাড

২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষ অবস্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এ সময় দেশে এফডিআই প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে (১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন) পৌঁছেছে।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাড-এর ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬’-এ এটি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে এফডিআই প্রবাহ ছিল ১২৩ কোটি মার্কিন ডলার (১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন), যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে (১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন)। বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জপূর্ণ হলেও, এ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আস্থা প্রতিফলিত করে।

এটি এমন সময় প্রকাশিত হয়েছে যখন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ অর্থ ব্যয়ের কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবাহ বিদ্যমান সময়ে অত্যন্ত কঠিন অবস্থায় রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের এ শক্তিশালী এফডিআই প্রবৃদ্ধি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

যদিও মোট স্থায়ী মূলধন গঠনে বাংলাদেশের এফডিআইয়ের অংশ তুলনামূলকভাবে কম, তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মডেলের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে দেশীয় বিনিয়োগ এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আঙ্কটাড নিশ্চিত করেছে যে, উন্নয়নশীল অঞ্চলগুলোর মধ্যে ২০২৫ সালেও উন্নয়নশীল এশিয়া বিশ্বের প্রধান বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তার অবস্থান ধরে রেখেছে। এ অঞ্চলে এ সময়ে মোট ৬৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এফডিআই এসেছে।

বাংলাদেশের এ সাফল্য এশিয়ার অর্থনীতিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক আগ্রহের বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রবণতারই একটি প্রকাশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা দুই বছর পতনের পর ২০২৫ সালে বৈশ্বিক এফডিআই ৬ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

এ পুনরুদ্ধারের পেছনে ডিজিটাল অবকাঠামো, উৎপাদন শিল্প, জ্বালানি রূপান্তর প্রযুক্তি এবং অন্যান্য কৌশলগত খাতে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদন শিল্প, সেবা, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, প্রতিযোগিতামূলক কর্মশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ভবিষ্যতে এফডিআই প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।

অর্ধ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি জিডিপি এবং শিল্পায়ন ও সংযোগ ব্যবস্থায় ধারাবাহিক অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রমেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেললাইন প্লাবিত হওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৯ এম


রেললাইন প্লাবিত হওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের জানআলীহাট ও ষোলোশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে রেললাইন প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে আর যাত্রা করতে পারেনি। পরে ট্রেনটি বুধবার পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।

একইভাবে বুধবার ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটিও ভোর থেকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে আটকে রয়েছে। জানআলীহাট-ষোলোশহর সেকশনে রেললাইনের ওপর থেকে পানি না নামা পর্যন্ত ট্রেনটি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।

আটকে পড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, যেসব যাত্রী ভ্রমণ বাতিল করতে চান তারা চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিটের অর্থ ফেরত নিতে পারবেন।

এছাড়া, যারা ঢাকায় ফিরে যেতে ইচ্ছুক, তারা বুধবার বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকায় ফিরতে পারবেন। গতক日の টিকিটধারী যাত্রীরাও একই টিকিট ব্যবহার করে এ ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত এ অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হঠাৎ দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করল ফিফা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩১ এম


হঠাৎ দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করল ফিফা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তা হচ্ছেন দলের ম্যানেজার স্যাম জাপাটকা এবং ইউএস সকার ফেডারেশনের নিরাপত্তাবিষয়ক সহসভাপতি ফ্র্যাঙ্ক প্যানেল।

ফিফার ডিসিপ্লিনারি প্রিভিউ (শাস্তিমূলক তথ্য) তালিকায় তাঁদের নাম প্রকাশ হওয়ার পর এই বিষয়টি সামনে আসে। তবে সংস্থাটি বরখাস্তের সুনির্দিষ্ট কারণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আলোচনার ভিত্তিতে জানা গেছে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচের পর ফিফার ম্যাচ প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং অননুমোদিত এলাকায় প্রবেশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে এই ঘটনাটির যোগসূত্র থাকতে পারে। ওই ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পরও বালোগুন মাঠে ফিরে সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যা ফিফার নিয়মবিরুদ্ধ। তবে ইউএস সকার ফেডারেশন স্পষ্ট জানিয়েছেন, দুই কর্মকর্তার বরখাস্তের সঙ্গে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা বা তাকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলানোর কোনো সম্পর্ক নেই।

ইউএস সকার ফেডারেশন বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তাদের বক্তব্য হলো, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ফিফার এখতিয়ারভুক্ত। অন্যদিকে, ফিফাও এ নিয়ে বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক জনসম্মুখ বিবৃতি দেয়নি।

স্যাম জাপাটকা ২০১৫ সাল থেকে ইউএস সকারের সঙ্গে যুক্ত এবং ২০২০ সাল থেকে জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, ফ্র্যাঙ্ক প্যানেল দলের নিরাপত্তাবিষয়ক দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস ও সিআইএসহ অন্যান্য বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করেছেন।

এছাড়া, শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ৪-১ গোলের পরাজয়ের ম্যাচে এই দুই কর্মকর্তার অনুপস্থিতি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ফিফার সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও নিয়ম প্রয়োগের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে অনেক মার্কিন ফুটবল সমর্থক ও বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলছেন। তবে ফিফার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত বরখাস্তের প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%