০৩:১৩ পি.এম
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, ১৮ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে পাঁচ মাস তো নয়ই, ১৮ মাসেও পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা সংকট সমাধানে সরকারকে সময় দিতে হবে।
মন্ত্রী এ সময় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন করে স্বীকৃতি দেওয়া এবং জুলাই যোদ্ধাদের গেজেটভুক্ত করার সুযোগ দেওয়ার কথাও জানান। শনিবার (১৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত একটি দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন, যেখানে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, এই দেশকে এবং দেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে বারবার ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, বাংলাদেশকে নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলার সুযোগ দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ইবি ইউট্যাবের শ্রদ্ধা নিবেদন
তিনি আরও বলেন, ১৮ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কারে আরো সময় প্রয়োজন। সরকার এক মুহূর্তের জন্যও বসে নেই; দেশ পুনর্গঠন ও সংস্কারের কাজ চলছে। মন্ত্রী বিরোধীদলের সমালোচনার প্রসঙ্গে বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে বিরোধীদল সরকারকে ব্যর্থ বলছে।'
প্রশ্ন তুলেন, ১৮ বছরের জঞ্জাল কি পাঁচ মাসে শেষ করা সম্ভব? এটা সম্ভব নয়। দেশের স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে এবং ধৈর্য ধরতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, গত ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদী সময়ে রাজনৈতিক কারণে অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এসব বিষয়ে অসংখ্য আবেদন পেয়েছেন এবং যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের আবারও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে বলেও জানান।
তিনি বলেন, যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, তারা যাচাই-বাছাইয়ে টিকে যাবেন এবং তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ফ্যাসিবাদী শক্তি যাদের বঞ্চিত করেছে, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।
আরও পড়ুন: ষড়যন্ত্র থেমে থাকবে না, তবুও এগিয়ে যেতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের সরকার বিদায়ের সময় তড়িঘড়ি করে কিছু জুলাই যোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করে বিষয়টি বন্ধ করে দিয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর বহু জুলাই যোদ্ধা জানিয়েছেন, তারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, অথচ গেজেটভুক্ত হননি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়া আবারও উন্মুক্ত করা হয়েছে। যারা প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা, তারা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন এবং যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তাদের মূল্যায়ন করে গেজেটভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে।
মন্ত্রী গত ১৮ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এই সময়ে অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, অনেকে পঙ্গু হয়েছেন এবং বহু পরিবারের বুক খালি হয়েছে। এসব নির্যাতিত মানুষেরও মূল্যায়ন করা হবে।
তিনি জানান, ১৮ বছরে হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হওয়া মানুষ এবং তাদের পরিবারের মূল্যায়নের জন্য নতুন একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্যাতিতরা আবেদন করলে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ঢাকা সিটি নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা
দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, লবিং, গ্রুপিং ও দলাদলি ভুলে যেতে হবে। মতভেদ হলে নিজেদের মধ্যে বসে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, দল ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই ক্ষতি করতে পারবে না।
সভায় সংগঠনের চেয়ারম্যান এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা, সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশীতা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন খান মিলনসহ সংগঠনের নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন