১০:৫১ এম
হরমুজ প্রণালীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির দুটি জাহাজে হামলা চলেছে। ইরানের এই হামলায় আবুধাবি তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘জলদস্যুতা’ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার প্রতি বড় ধরনের হুমকি বলে অভিহিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় হামলার ঘটনার পর কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: নবনির্বাচিত সেনেটর এল-সায়েদ মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত চান
আমিরাতের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জলপথ অতিক্রম করার সময় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) দুটি জাহাজ হামলা চালানোর শিকার হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
শুক্রবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায় যে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় এডিএনওসি-সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের ‘বৈরী হামলার’ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিযোগ নিয়ে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে গত শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে সরকারি মালিকানাধীন একটি ট্যাংকারে একই ধরনের হামলা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। একই সপ্তাহের মধ্যে আবারও প্রণালিতে ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় শ্রম আন্দোলনের নামে হামলায় শ্রমিক মো. সেলিম গুরুতর আহত
ইরান হরমুজ প্রণালিতে একটি কার্যকর অবরোধ বজায় রেখেছে এবং এই পথে চলাচলের জন্য অর্থ আদায় করতে চায় বলে অভিযোগ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করছে এবং ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নিজস্ব অবরোধ আরোপ করেছে।
প্রণালিটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান বর্তমানে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে।
এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তেহরানের শত্রুদের সঙ্গে যুক্ত অথবা ইরানের নির্দেশনা অমান্যকারী কোনো জাহাজ যদি প্রণালিটি দিয়ে চলাচল করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ইরানের প্রচেষ্টা ‘জলদস্যুতার’ শামিল। এটি এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, এর জনগণ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য সরাসরি হুমকি বলে মত প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন: ককরোচ পার্টির নতুন বিক্ষোভের ডাক ৭ নভেম্বর কোচিতে
আল জাজিরা জানাচ্ছে, গত শনিবারও জাহাজে হামলাটি হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত এ ঘটনার জন্য আইআরজিসিকে দায়ী করেছিল।
এডিএনওসি জানাচ্ছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় তাদের মোট ১৫টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা
আরও পড়ুন: ফ্রান্সে ব্লাড ব্যাংক ও ইউরোপজুড়ে কোল্ড স্টোরেজে সাইবার হামলা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন