০৩:৪৩ পি.এম
কানাডায় নতুন এইচআইভি সংক্রমণের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
দেশটির সরকারি নতুন তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে নতুন সংক্রমণ প্রায় ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘদিনের অর্জিত সাফল্য এখন হুমকির মুখে।
আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি
কানাডার পাবলিক হেলথ এজেন্সির মডেলিং তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে আনুমানিক ২ হাজার ৫১৭ জন নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন। ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫০ জন।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বিসি সেন্টার ফর এক্সেলেন্স ইন এইচআইভি/এইডস-এর নির্বাহী পরিচালক ও চিকিৎসক ড. জুলিও মন্টানার বলেছেন, প্রতি সপ্তাহেই ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় নতুন সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হচ্ছে।
তার ভাষায়, ‘আমি সামনে কী আসছে তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বহু বছরের অগ্রগতি যেন হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় শহরের পাশাপাশি এখন ছোট ছোট কমিউনিটিতেও এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ছে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন
এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও পরীক্ষার সুযোগ সীমিত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
২০১৯ সালে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া এইডস মহামারি নিয়ন্ত্রণে সফলতার ঘোষণা দিয়েছিল।
সে সময় নতুন এইডস রোগীর সংখ্যা ৯০ শতাংশ কমে আসে এবং নতুন সংক্রমণও রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।
তবে এরপর থেকে পরিস্থিতি আবারও অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ড. মন্টানার।
আরও পড়ুন: বটিয়াঘাটায় তিন গুলির ঘটনায় গ্রেফতার নেই, ওসি প্রত্যাহার
চলতি year's মে মাসে ম্যানিটোবা প্রদেশে এইচআইভিকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
সেখানে সংক্রমণের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি।
অন্যদিকে সাসকাচেওয়ানের সংক্রমণের হারও দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
ড. মন্টানারের নেতৃত্বে ২০০৬ সালে চালু হওয়া ‘ট্রিটমেন্ট অ্যাজ প্রিভেনশন’ কৌশলটি এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে দেশে আরও ২ জনের মৃত্যু
২০১৪ সালে জাতিসংঘ এই কৌশল গ্রহণ করে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এইডস মহামারি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নির্ধারণ করে।
এই লক্ষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি দেশে তিনটি সূচক অর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে- এইচআইভি আক্রান্তদের ৯৫ শতাংশকে শনাক্ত করা, তাদের ৯৫ শতাংশকে চিকিৎসার আওতায় আনা এবং চিকিৎসাধীনদের ৯৫ শতাংশের ভাইরাল লোড নিয়ন্ত্রণে রাখা।
তবে এখন পর্যন্ত কানাডা এই তিনটি লক্ষ্যের মধ্যে মাত্র একটি পূরণ করতে পেরেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশটিতে এইচআইভি সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে এবং ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন: আইইডিসিআর পরিচালকের ওপর হামলা, ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন