ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ইয়েমেনের তেলসমৃদ্ধ মারিবে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত ১০


ইয়েমেনের তেলসমৃদ্ধ মারিবে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত ১০

ইয়েমেনের কৌশলগত একটি প্রদেশে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় শুক্রবার অন্তত ১০ জন মারা গেছেন। দেশটির এক মন্ত্রী ও সামরিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তেলসমৃদ্ধ মারিব অঞ্চলে বিদ্রোহীরা হামলা আরও জোরদার করেছে।

এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি’র পক্ষ থেকে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথি এবং সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে ২০২২ সালে সংঘটিত যুদ্ধবিরতি গত মাসে ভেঙে গেছে। এর পর বৃহস্পতিবার মারিব প্রদেশে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সরকারি বাহিনীর অন্তত ৫৮ সদস্য মারা গেছেন।

আরও পড়ুন: বিএনপি নেতার প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে পিবিআই তদন্ত

ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘২০২২ সালের এপ্রিল মাসে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর থেকে যেকোনো সময়ের তুলনায় আজ ইয়েমেন বড় ধরনের সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিনি উভয় পক্ষকে ‘সংযম’ প্রদর্শন এবং ‘সদিচ্ছার সঙ্গে আলোচনায়’ ফিরে আসার আহ্বান জানান।

একটি সামরিক সূত্র’বাবে এএফপিকে জানানো হয়েছে যে, মারিবে সর্বশেষ হুথিদের হামলায় সরকারি বাহিনীর আট সদস্য মারা গিয়েছেন এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।

সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হুথিরা মারিব শহরের আবাসিক এলাকা ও বাস্তুচ্যুতদের শিবিরে গোলাবর্ষণ পরিচালনা করেছে। এর ফলে অন্তত দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: মিসিসিপির সিনেট নির্বাচনে উত্তেজনা এখনও বাকি

হুথিরা দাবি করেছে, তারা মারিব প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি সামরিক শিবিরে হামলা চালিয়েছে। হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানান, ‘সৌদি শত্রু তাদের বাহিনীকে সংগঠিত ও উসকানি দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এই বাহিনী এবং তাদের অস্ত্রভাণ্ডার, যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে সাহন আল-জিন শিবিরে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বুহাইবেহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘শুক্রবার সন্ত্রাসী হুথি মিলিশিয়া মারিব শহরের আবাসিক এলাকা ও বাস্তুচ্যুতদের শিবির লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করেছে। প্রাথমিক হিসাবে এতে দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং বিভিন্ন মাত্রায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন।’

এক সামরিক সূত্র অনুযায়ী, হুথিরা মারিব প্রদেশের সামরিক শিবিরগুলো লক্ষ্য করে ১০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও সাতটি একমুখী হামলা চালাতে সক্ষম ড্রোন হামলা করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রটি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এএফপিকে জানায়, ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের হামলায় ‘চুপ করে বসে থাকবে না’।সূত্রটি জানায়, মারিব তাদের জন্য একটি ‘লাল রেখা’ বা ‘চূড়ান্ত সীমা।’

আরও পড়ুন: অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে মধ্যরাতে ছাত্রীদের বিক্ষোভ, পদত্যাগের দাবি

সূত্রটি সতর্ক করে উল্লেখ করে যে, ‘জোট উত্তেজনা বাড়াতে চায় না’, ‘তবে হুথিদের মারিব প্রদেশ দখল সৌদি কর্তৃপক্ষ মেনে নেবে না।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আঞ্চলিক যুদ্ধের মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩০ এম


আঞ্চলিক যুদ্ধের মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

হুথিদের হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সহিংসতার প্রেক্ষাপটে শুক্রবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে রিয়াদ চেষ্টা করছে। এই যুদ্ধের গণ্ডিতে আশপাশের কয়েকটি দেশও জড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

এই খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র। এছাড়া, ইরান ইয়েমেনের তাদের মিত্র হুথিদের আরও সক্রিয় করে তুলেছে। তারা সৌদি আরবে হামলাই চালিয়েছে। একই সময়ে, বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে ক্রমেই কম নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সৌদি আরবের সরকারি বার্তা সংস্থা এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন দেশ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করেছে।

চুক্তিতে তিন দেশ ‘সমষ্টিগত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা এবং অঞ্চল ও এর বাইরেও শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায়’ একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী যদি কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলা হয়, তাহলে সেটি তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। এর উদ্দেশ্য হলো ‘সমষ্টিগত প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করা’।

তবে, তুরস্ক পরবর্তীতে জানিয়েছে যে, চুক্তিটি ‘কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়’। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের যোগাযোগ পরিচালক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তুর্কি সরকারের অপতথ্যবিরোধী সংস্থাও এক্সে প্রকাশিত একটি পোস্টে বলেছে, ‘ন্যাটোর মূল অঙ্গীকারসহ তুরস্কের বিদ্যমান আন্তর্জাতিক জোটগুলোর প্রতি কর্তব্যের সঙ্গে এই চুক্তি সাংঘর্ষিক নয়।’

রিয়াদও পরিষ্কার করে বলেছে, ‘এই চুক্তি কোনো সামরিক জোট বা সাম্প্রদায়িক বলয় গঠনের উদ্যোগ নয়।’ সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি এক্সে বলেন, ‘এটি কোনো পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা অস্ত্র প্রতিযোগিতার সাথে যুক্ত নয়; বরং টেকসই সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই চুক্তি এই অঞ্চলের কোনো দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রথম বেইমানি করেছেন জামায়াত আমির : রাশেদ খাঁন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৪ এম


গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রথম বেইমানি করেছেন জামায়াত আমির : রাশেদ খাঁন

গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রথমেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বেইমানি করেছেন বলেই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে নিজগ্রাম ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী মুরারীদহ মিয়ার দালান পরিদর্শনের পর, সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনার সঙ্গে প্রথম বেইমানিটি করেছেন জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমান।’

তিনি আরো বলেন, ‘নাহিদ ইসলাম গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত একদম সঠিক পথেই ছিলেন। তবে তিনি যে মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামীর ফাঁদে পা দিয়েছেন, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই তিনি বিপথগামী হয়েছেন।’

এ সময় ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়াকাটায় এক জালেই ধরা পড়েছে ৪৬ মণ ইলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৭ এম


কুয়াকাটায় এক জালেই ধরা পড়েছে ৪৬ মণ ইলিশ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছধরার ট্রলারের জালে ধরা পড়েছে ৪৬ মণ ইলিশ। নিলামে এসব ইলিশ বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়, যা দীর্ঘদিন পর জেলেদের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার করেছে।

জানা গেছে, গত ৬ আগস্ট পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে এফবি জুনাইদ নামের একটি মাছধরা ট্রলারে আলমগীর মাঝির জালে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে ট্রলারটি মাছ নিয়ে মহিপুর মৎস্য বন্দরে পৌঁছালে মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামের মাধ্যমে মাছগুলো বিক্রি করা হয়।

আড়ত সূত্রে জানা যায়, এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ২৪ মণ ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা (প্রতি কেজি ২ হাজার ৮৭৫ টাকা) দরে বিক্রি হয়ে ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে প্রতি কেজি ২ হাজার ৩৭৫ টাকা হারে বিক্রি হয়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৪৬ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।

ট্রলারের মাঝি আলমগীর বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছি। একবার জাল ফেলতেই প্রায় দুই হাজার ২০০ পিস ইলিশ ধরা পড়ে। দীর্ঘদিনের লোকসানের পর এমন মাছ পেয়ে আমরা খুবই খুশি।

মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, দীর্ঘদিন পর এত বড় চালানের ইলিশ এসেছে। বর্তমানে বাজারে ইলিশের দাম অনেক বেশি থাকায় জেলেরা ভালো মূল্য পেয়েছেন। সচরাচর এত বড় আকারের ইলিশ একসঙ্গে পাওয়া যায় না।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ মাছ ধরার বোটেই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশের দেখা পাচ্ছে না। তবে এরই মধ্যে একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর এবং জেলেদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

তিনি আরও বলেন, একদিনের এই বেশি আহরণকে সামগ্রিকভাবে ইলিশের প্রাচুর্যের সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বিষয়টি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। ইলিশের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের খরা ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আরও বেশি ইলিশ মিলতে পারে। এতে জেলে, আড়তদারসহ ইলিশ সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৪৭১ বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজে পরীক্ষার নির্দেশ মার্কিন বিমান কর্তৃপক্ষের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪৩ এম


৪৭১ বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজে পরীক্ষার নির্দেশ মার্কিন বিমান কর্তৃপক্ষের

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, যার সংক্ষেপ হচ্ছে এফএএ, শত শত বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ পরীক্ষা করার জন্য একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পুরোনো ৭৩৭ মডেলের কয়েকটি উড়োজাহাজে ফাটল পাওয়ার খবরের পর।

এফএএ চলতি সপ্তাহে এই নতুন নিয়মটি চূড়ান্ত করেছে, যেটি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন নিয়মটি আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

নির্দেশনাটি কিছু নির্দিষ্ট বোয়িং ৭৩৭-৮, ৭৩৭-৯ এবং ৭৩৭-৮২০০ উড়োজাহাজের জন্য প্রযোজ্য। এতে মোট আনুমানিক ৪৭১টি উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এফএএ জানিয়েছে, এই নির্দেশনা ‘অনিরাপদ পরিস্থিতি’ মোকাবিলার জন্য জরুরি ভিত্তিতে জারি করা হয়েছে। তবে, বর্তমানে এই বিশেষ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে কোনো ফাটল পাওয়া যায়নি।

নভেম্বরে যখন নতুন নিয়মটির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তখন এফএএ জানিয়েছিল, তারা পুরোনো নেক্সট-জেনারেশন ৭৩৭-এর কয়েকটি উড়োজাহাজের সামনের অংশের ভার বহনকারী একটি ধাতব পাতায় ফাটল পাওয়ার রিপোর্ট পেয়েছে।

এই ধাতব পাতাগুলো উড়োজাহাজের দরজা এবং জরুরি বের হওয়ার পথের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশকে শক্ত করে ধরে রাখে।

এফএএ বলছে, ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলোর পুরোনো মডেলগুলোর সঙ্গে ‘একই ধরনের নকশা ও তৈরির প্রক্রিয়া’ রয়েছে। এই কারণে, এসব উড়োজাহাজেও একই ধরনের ফাটল সৃষ্টি হতে পারে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে যে, যদি সমস্যাটি সমাধান না করা হয়, তাহলে এটি ‘উড়োজাহজের কাঠামোগত শক্তির ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।’

বোয়িং একটি বিবৃতিতে বলেছে, তারা আগেই এই সমস্যাটি শনাক্ত করে রিপোর্ট দিয়েছে। কোম্পানিটি উল্লেখ করেছে, ‘গত ছয় বছর ধরে আমরা এ নিয়ে উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করেছি।’ বোয়িং জানায়, ২০১৯ সালে তারা নেক্সট-জেনারেশন ৭৩৭ উড়োজাহাজ পরীক্ষা করার জন্য নির্দেশনা পাঠিয়েছিল। পরে ২০২১ সালে এফএএ এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করে।

বোয়িং আরও বলেছে, তারা ইতোমধ্যে ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলোর ক্ষেত্রেও এই পরীক্ষা চালু করেছে। এফএএ এর সর্বশেষ নির্দেশাবলী এখন এই প্রক্রিয়াকেও বাধ্যতামূলক করেছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ‘আমরা দুটি নির্দেশকেই সমর্থন করি এবং আমাদের বিমান সংস্থার গ্রাহকদের সহযোগিতা করে যাব।’

এফএএ এদিকে আরও জানিয়েছে, তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আগেই মেরামত করা উড়োজাহাজগুলোর বাইরের কাঠামোর পাতও পরীক্ষা করতে হবে। নিরাপত্তা, গুণমান এবং উৎপাদন নিয়ে বোয়িং বহু বছর ধরে নানা সমস্যার মুখে পড়ছে। এর মধ্যে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে ৩৪৬ মানুষ প্রাণ হারান।

গত বছর, আলাস্কা এয়ারলাইনস দ্বারা পরিচালিত একটি ম্যাক্স ৯ উড়োজাহাজ মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় তার এক প্যানেল খুলে গিয়ে উড়ে যায়। গত মাসে এফএএ জানিয়েছিল, বোয়িংকে তাদের সব ৭৩৭ ম্যাক্স এবং ৭৮৭ উড়োজাহাজের নিরাপত্তা সনদ দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে। নতুন এই নির্দেশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ম্যাক্স উড়োজাহাজের ক্ষেত্রেও পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হয়ে গেল। পুরোনো ৭৩৭ উড়োজাহাজে দেখা ফাটলের সাথে সম্পর্কিত সম্ভাব্য কাঠামোগত ঝুঁকি মোকাবিলার উদ্দেশ্যে এফএএ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%