প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় শাহাদাৎ হোসেন বাপ্পি (২৭) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার কানুয়া (৮নং ওয়ার্ড) এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত বাপ্পি উপজেলার ১ নম্বর ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শিয়ালকাঠী গ্রামের শহিদ হাওলাদারের ছেলে। তিনি আহাদ হাওলাদার মুরসালিন (৬) এবং মুসফিকা (সাড়ে ৩ বছর) নামের দুটি সন্তানের জনক।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত বাপ্পির স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম গার্মেন্টসের কাজের জন্য জর্ডানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে স্বামী বাপ্পি এবং তার পরিবার এতে রাজি ছিলেন না। এই পারিবারিক দ্বন্দ্বের ফলস্বরূপ, মীম কিছুদিন আগে তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন। অভিযোগ রয়েছে যে, বিদেশ যাওয়ার কাগজপত্র তৈরির অজুহাতে মীম প্রায়ই ঢাকায় যাতায়াত করতেন এবং বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করতেন।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত ১১ জুন, মীম বাপ্পিকে না জানিয়ে পুনরায় ঢাকায় গিয়ে একটি হোটেলে অবস্থান নেন। ওই সময় বাপ্পি মোবাইল ফোনে স্ত্রীর সাথে রাগারাগি করেন। একপর্যায়ে যখন ভিডিও কল করা হয় তখন মীম যে হোটেল রুমে ছিলেন, সেখানে এক পরপুরুষকে দেখেন বাপ্পি। এই ঘটনা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দ্বন্দ্বকে চরম পর্যায়ে পৌঁছে দেয়।
এরপর, গত ১৪ জুন, মীম ঢাকা থেকে কানুয়ায় তার বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং মোবাইল ফোনে বাপ্পিকে সেখানে ডেকে নেন।
নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম জানিয়েছেন, গতকাল ১৫ জুন (সোমবার) রাতের খাবার শেষে তাদের মধ্যে বরাবরের মতো কথাকাটাকাটি হয়। এর পর রাত ১টা নাগাদ তারা ঘুমাতে যান। রাত ২টার দিকে মীমের ঘুম ভেঙে গেলে তিনি বাপ্পিকে খাটে দেখতে পান না, ফলে খুঁজতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে ঘরের আড়ার (কাজপাইর) সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় বাপ্পিকে ঝুলতে দেখেন। মীমের ভাষ্যমতে, তিনি একা ওড়না কেটে বাপ্পির দেহ নিচে নামিয়ে খাটে রাখেন এবং পরে বাপ্পির পরিবারকে খবর দেন।
তবে বাপ্পির মা রুবী বেগম এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, "আমার ছেলেকে হত্যা করে এখন গলায় ফাঁসের নাটক সাজানো হচ্ছে।" পুত্রবধূ মীম উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করেছেন এবং একাধিক পুরুষের সাথে তার সম্পর্ক রয়েছে। ঘটনার দুই দিন আগে, সে ঢাকায় অন্য পুরুষের সাথে হোটেলে ছিল, যা আমার ছেলে ভিডিও কলে দেখে ফেলেছিল। এই ক্ষোভ থেকেই তারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে।
এদিকে বাপ্পির মা রুবী বেগম মীমদের বাড়িতে এসে আহাজারি শুরু করলে একপর্যায়ে মীমের চাচাতো ভাই বেল্লাল হাওলাদার তাকে বাঁশ দিয়ে মারধর করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রত্নেশর কুমার মন্ডল জানিয়েছেন, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানা গেছে।
ক্যাপশন: ভাণ্ডারিয়ায় সন্তানের অকাল মৃত্যুতে শোকাহত জননী রুবি বেগমের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন