০৭:১৬ এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে জিহাদ নামে একজন কিশোর নিহত হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার পাশাপাশি পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ তদন্ত করে দেখছে, এটি নিছক ছিনতাই নাকি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সরাইল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্র্যাক অফিসের পূর্বপাশে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার এলাকায়।
নিহত জিহাদ (১৭) সরাইল সদর ইউনিয়নের কুট্টাপাড়া গ্রামের আজগর আলীর সন্তান ছিল। জিহাদ স্থানীয় কুট্টাপাড়া মোড়ের একটি গ্যারেজে মোটর মেকানিক হিসেবে কাজ করত।
আরও পড়ুন: মাইশার মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত ঘাতক লরি চালককে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ
পুলিশ, হাসপাতাল ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে নিহত কিশোরের পিতা আজগর আলী কুট্টাপাড়ার নাইল্লা ভাঙা খালে মাছ ধরতে যান। বিকেল ৪টার দিকে জিহাদ তার বাবার কাছ থেকে মাছ নিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরে সে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলে সন্ধ্যার পরে বাবাকে বাড়িতে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে আবার বের হয়। কিন্তু রাতে হলেও সে আর বাড়ি ফেরেনি।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে মহাসড়কের পাশে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দুর্বৃত্তরা জিহাদের বাম হাত ও বাম উরুর অংশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মোবাইল ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় জিহাদকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনন্ত কুমার জিহাদকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের ধারণা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত জিহাদের বাবা আজগর আলী বলেন, 'আমার ছেলে বিকেলে আমার কাছ থেকে মাছ নিয়ে বাড়িতে দিয়ে আবার মাগরিবের পর আমাকে আনতে বের হয়েছিল। অনেক রাত হয়ে গেলেও সে বাড়ি না ফেরায় আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে রাস্তার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পাই। এসময় তার মোবাইল ফোনটিও নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। আমি বিশ্বাস করি, ছিনতাইকারী অথবা পরিকল্পিতভাবে কেউ আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।'
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে পাচারকালে ৪৯২ বস্তা ইউরিয়া ও ৮ পাচারকারী আটক
এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, 'ছুরিকাঘাতে এক কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। এটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।'
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন