মোঃ শাহিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
০৭:৫১ পি.এম
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক–২০২৬ অর্জন করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থী আইমান কানিতা। বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইমান কানিতার হাতে এই মর্যাদাপূর্ণ পদক তুলে দেন।
পদক হস্তান্তরকালে প্রধানমন্ত্রী কৃতী শিক্ষার্থী আইমান কানিতার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। অনুষ্ঠানটিতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল মিলন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আইমান কানিতার এই জাতীয় অর্জনে নবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জেলায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
এই ঐতিহাসিক সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লতিফা হক বলেন, “আইমান কানিতার এই গৌরবময় অর্জন শুধু আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য নয়, বরং পুরো চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার জন্য অত্যন্ত গর্বের। তার এই অভাবনীয় সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যেতে প্রেরণা জোগাবে।”
আইমান কানিতার এই অনবদ্য প্রাপ্তিতে জেলাজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আপামর জনসাধারণ এই কৃতি শিক্ষার্থীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার মাদক মামলায় মো. মামুন (৩১) নামে এক যুবককে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে, অনাদায়ে আরও ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ দাররা জজ মো. আবু শামীম আজাদ এই রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. মামুন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া হোগলাকান্দি এলাকার আব্দুর রশীদের ছেলে। তবে রায় ঘোষণার সময় মামুন পলাতক ছিলেন।
কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের ঝাউচল এলাকা থেকে মামুনকে ৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। তিনি কুমিল্লা থেকে মোটরসাইকেলে করে ইয়াবা বহন করে আসছিলেন। পরে এই ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। আদালত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই রায় ঘোষণা করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার জন্য পরিকল্পিত পরিবার গঠন করা অপরিহার্য।
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগাতে তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্খা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উদযাপন উপলক্ষে বরিশাল বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের আয়োজনে সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে আজ বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত পরিকল্পিত, মেধাবী ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবার গড়ে তোলা। শুধু জনসংখ্যা বৃদ্ধি নয়, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির দিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং নতুন প্রযুক্তি দ্রুত আয়ত্ত করার সক্ষমতা রয়েছে। এই সম্ভবনাকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কাজ করতে হবে।
বরিশাল বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম, উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার ও সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. মনজুর-এ-এলাহী।
এ সময় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, তরুণ প্রজন্ম উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে প্রধান অতিথি বরিশাল বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলার স্তরে কর্মরত শ্রেষ্ঠ কর্মীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশের ৫ জন কর্মকর্তা বদলি করা হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক দারা জানানো হয়েছে যে, চার জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং একজন সহকারী পুলিশ সুপারকে বদলি করতে হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অ্যাডিশনাল ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান সই করা একটি আদেশের মাধ্যমে তাদের বদলি করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহরাব হোসাইন, যিনি পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন, তাকে পিরোজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। একইভাবে, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (টিআর) মো. মাহমুদ খান, যিনি বর্তমানে মিশন শেষে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে রিপোর্ট করেছেন, তাকে বাগেরহাট মোড়েলগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (টিআর) এস এম মনসুরা মূসাকে হবিগঞ্জ জেলার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে রিপোর্ট করা মো. মেহেদী হাসান শাতিলকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার তারিক লতিফকেও হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মকর্তারা বদলি হওয়া কর্মস্থলে যোগদানের জন্য আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণ করবেন। যদি তারা তা না করেন, তাহলে ৩০ জুলাই তাদের তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে কোনো ধরনের চরমপন্থা ও উগ্রবাদের ঠাঁই হবে না, এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধারা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, যেখানে চরমপন্থার কোনো স্থান থাকবে না এবং ন্যায়পরায়ণতাই হবে শেষ কথা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে আর কাউকে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে দেয়া হবে না।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তার দীর্ঘ বক্তব্যের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। কুইক রেন্টাল ও জ্বালানি খাতের সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার নিজের পকেট ভারী করার উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ খাতকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিল।
গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী, ‘একটি বিল উপস্থাপনকে কেন্দ্র করে আমাদের মধ্যে দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু সংসদে অত্যন্ত প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দল ও সরকারি দল– উভয় পক্ষই তাদের চিন্তা উপস্থাপন করতে পেরেছে। এই সংসদ সত্যিই জনগণের সংসদ হয়ে উঠেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা উভয় পক্ষই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিগত ১৭ বছরে এবং জুলাই বিপ্লবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পাশে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়াব।’
জাতীয় সংসদে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৩১ দফা এখন আর শুধু বিএনপির ৩১ দফা নয়, এটি এখন সমগ্র দেশের ৩১ দফা। জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।’
দেশের অর্থনীতিকে ঋণনির্ভরতা থেকে বের করে বিনিয়োগনির্ভর করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে পরিণত করতে চাই। কেবল জনশক্তি রফতানি নয়, দেশে ইকো-টুরিজম, তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্লু-ইকোনমি খাতে ১০ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিবছর ৫ কোটি করে মোট ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা জানান তিনি। এই লক্ষ্যে চারা উৎপাদনের জন্য ১০ হাজার নতুন নার্সারি তৈরি হবে, যা আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এ ছাড়া তরুণদের জন্য চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা ও ক্যারিয়ার সেন্টার তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাকে অটো প্রমোশন ও নকল দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল। ফ্যাসিবাদ পরিকল্পিতভাবেই এই কাজটি করেছে। আমরা বিতর্কিত বিষয়গুলো সিলেবাস থেকে সরিয়ে এনে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও মানসম্মত শিক্ষায় জোর দিচ্ছি। আগামী বাজেটে জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা হবে।’
দেশের স্বাস্থ্য খাতকে ‘১০১ ভাগ অসুস্থ’ আখ্যায়িত করে তারেক রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকার এ দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে অন্য দেশের হাতে তুলে দিয়েছিল। আমরা স্বাস্থ্য খাতের বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করতে চাই। রোগ প্রতিরোধের ওপর জোর দিতে দেশজুড়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কাজ শুরু হয়েছে।’ গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঁচটি বিভাগে ২০০ শয্যার পাঁচটি শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।
দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দুর্নীতিকে হাত বেঁধে হোক কিংবা টুঁটি চেপে ধরে হোক–নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার বাহিনীতে রূপান্তর করতে চাই। এরইমধ্যে ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’
সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে দেশের ৩০০ সংসদ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের নিজ নিজেদের এলাকায় দায়িত্ব নেবার সুযোগ থাকলে পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সংসদ অধিবেশন চলাকালীন নিরলসভাবে কাজ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অগ্রিম ভাতা দেয়ার জন্য স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
সবশেষে রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকবে, কিন্তু শত্রুতা নয়। বাংলাদেশে আর যাতে কখনও ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিতে না পারে এবং দেশ যাতে কখনও তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত না হয়– এই প্রশ্নে আমাদের সবার মধ্যে জাতীয় ঐক্য রয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ