০১:৫১ এম
কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে দিনদুপরের সময়ে ডিজিটাল ডন নেট (ডিডিএন) নামে পরিচিত একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং ৩৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল দুপুরে নগরীর চকবাজার থানাধীন চন্দনপুরা-বাকলিয়া অ্যাকসেস রোডে এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার সঙ্গে অভিযোগের তির বিদেশে পালাতে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন সম্পর্কিত। সিএমপির চকবাজার থানার ওসি নুর হোসেন মামুন জানান, এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুন বলেন, তিনি দুই দিন আগে ডেভিড ইমন নামের একজন সন্ত্রাসীর ফোন পেয়েছিলেন, যে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দেওয়ার কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের ৩৫ লাখ টাকা লুটের দিকে গড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে এসেছে। ফুটেজে দেখা যায়, সশস্ত্র ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল ডিডিএনের কার্যালয়ে প্রবেশ করে এবং কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে থাকে। তারা কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে হামলা চালায় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ সময় ওই এলাকার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে গত ৯ মে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে একজন সাংবাদিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুলি করার হুমকি প্রদান করা হয়েছিল। মোবারক হোসেন ওরফে ইমন বিপ্লব দে পার্থ নামের ওই সাংবাদিককে এ হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার পর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বিপ্লব দে পার্থের পক্ষ থেকে।
সোমবার যে প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানের পাশেই চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশের পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসায় গুলি চালানো হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা করেছে। এর আগে গত ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয়েছিল, যার ফলে বাসার জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। ওই ঘটনার পর থেকে বাসাটি পুলিশের পাহারায় ছিল, কিন্তু এরপরও আবার গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে যায়।
মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, মোবারক হোসেন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন, এমন তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ এবং বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পালাতে থাকা সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাঁদের একজন মোবারক হোসেন। এর আগে দেশের এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ, বর্তমানে যিনি কারাগারে রয়েছেন। মোবারক হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান দলের নেতৃত্বে রয়েছেন। রায়হানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র এবং হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।
পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও মোবারক হোসেন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার জব্বার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন