১২:১২ এম
ভারতের মুম্বাইয়ের মানখুর্দ এলাকার এক বস্তিতে বহুতল ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় এক হৃদয়বিদারক তথ্য সামনে এসেছে। টানা ভারী বর্ষণের কারণে ভেঙে পড়া চারতলা অবৈধ ভবনটির নিচে চাপা পড়ে যে পরিবারটি প্রাণ হারিয়েছে, তারা দুর্ঘটনার ঠিক পরদিনই ওই স্থান ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে নতুন ঠিকানায় যাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে নিভে যায় মা ও চার সন্তানসহ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের জীবনপ্রদীপ।
দুর্ঘটনার কবলে পড়া আক্তার জাহান নামের ওই নারী এবং তার দিনমজুর স্বামী মঈনউদ্দিন ওয়াজিদ আলী শাহ আগে থেকেই টের পেয়েছিলেন যে তাদের টিনের ঘরের পাশে থাকা চারতলা ভবনটি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। অবিরাম বৃষ্টির কারণে ভবনটিতে ফাটল দেখা দিয়েছিল, টাইলস খসে পড়ছিল এবং সেটি একপাশে হেলে পড়েছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওই ভবনের বাসিন্দারা আগেই নিরাপদ স্থানে সরে যান। বিপদের আভাস পেয়ে আক্তার জাহানও ঘটনার দিন রাতে তড়িঘড়ি করে ঘরের জিনিসপত্র গোছাচ্ছিলেন যেন পরদিন রবিবারই তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে পারেন। মঈনউদ্দিন তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে আর মাত্র একটা রাত পার করলেই তারা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাবেন। কিন্তু সেই সকাল আর তাদের জীবনে আসেনি। শনিবার রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে চারতলা ওই অবৈধ স্থাপনাটি পাশের টিনের ঘরগুলোর ওপর ভেঙে পড়ে। ঘটনার কিছু সময় আগে ঘরের বাইরে থাকায় মঈনউদ্দিন অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে মারা যান তার স্ত্রী ও সন্তানেরা।
মুম্বাইয়ের মানখুর্দের মন্ডলা এলাকার জনতা নগরে ঘটা এই দুর্ঘটনায় উদ্ধারকারীরা রাতভর অভিযান চালিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ ও জীবিতদের উদ্ধার করেন। স্থানীয় পৌর প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে ভেঙে পড়া চারতলা ভবনটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
পুলিশ ইতিমধ্যেই ভবনের মালিক এবং নির্মাণকাজের ঠিকাদারকে গ্রেফতার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত নরহত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন কীভাবে সব সুরক্ষানীতি অমান্য করে এই অবৈধ ভবনটি গড়ে তোলা হয়েছিল।
এদিকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য ৫ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।
সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন