১০:৫৬ এম
সাভারের আশুলিয়ায় বংশাই (গাজীখাল) নদীতে শিক্ষকের সঙ্গে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে রাতুল হাসান রিফাত (১৪) নামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আশুলিয়ায় এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শিক্ষকের অবহেলার কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে পরিবারটির তরফ থেকে।
আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে নতুন মুখ, সভাপতি আচ্ছু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মিলন
নিহত রাতুল হাসান রিফাত (১৪) জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভার উত্তর কিসমত জাল্লা এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে। সে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে আশুলিয়ার কোনাপাড়া এলাকায় আবুল হোসেনের ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে আসছিল এবং স্থানীয় আল-কলম প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষক ইমরান নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাতসহ ৯ শিক্ষার্থীকে নিয়ে গাজীরখালে গোসল করতে আসেন।
পানিতে নেমে রিফাতসহ আরো ২-৩ জন পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এ সময় দুইজনকে পানি থেকে তুলে নেওয়া হলেও রিফাত পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টা পর রাহাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় আমছু রহমান জানান, 'আল কলম স্কুলের শিক্ষককে বারবার নিষেধ করা হয়েছে যে এখানে পানির স্রোত বেশি, নাইমেন না।' এরপরও ৯ জন বাচ্চা নিয়ে সে নদীতে নামে। আধাঘণ্টা পর হঠাৎ ওই শিক্ষকসহ আরো দুই শিক্ষার্থী পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। পরে দুইজন উঠলেও রিফাত নিখোঁজ হয়। এরপর স্থানীয় আরো বেশ কয়েকজনকে নিয়ে খোঁজাখোঁজি করে প্রায় এক ঘণ্টা পরে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: চুয়েট ভিসিকে না মানার ৬ কারণ দেখিয়ে বিএনপি মহাসচিবকে স্মারকলিপি
স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, আল ক্বলম স্কুল থেকে কয়েক দিন পরপরই শিক্ষার্থীদের বিনোদনের নাম করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। আর আজকে এমনি করে নদীতে নিয়ে আসা হয়েছিল। একজন শিক্ষকের অবহেলায় এক মায়ের বুক খালি হলো। এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের শাস্তির দাবি জানাই।
এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে স্কুলটির কর্ণধার খোরশেদ আলমের সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয়ে মুঠোফোনে তথ্য চাইলে তিনি ফোনটি কেটে দেন। পরে বারবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়া একাধিকবার চেষ্টা করেও অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরানের কোনো বক্তব্য সংগ্রহ করা যায়নি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। মরদেহ বর্তমানে ঢাকা কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে রয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সেবার মান বাড়াতে কমিশনারের নির্দেশনা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন