০৮:৫৮ এম
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বহুল আলোচিত সমঝোতা চুক্তির খসড়া পর্যালোচনা করার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছিল তেল আবিবের পক্ষ থেকে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে সই হতে যাওয়া ওই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এখনও ইসরায়েলের কাছে অজানা রয়ে গেছে, এমনটাই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
যেমনটি জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সমঝোতা স্মারকটি দেখার জন্য ইসরায়েলের তরফ থেকে করা একটি অনুরোধ নাকচ করা হয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে সেই বিষয়ে দাবি করা হয়েছে। মঙ্গলবার চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা স্মারকটি পর্যালোচনার সুযোগ চাইলেও ওয়াশিংটন সে বিষয়ে সাড়া দেয়নি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও ইসরায়েলের কাছে পৌঁছায়নি। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা সই হওয়ার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রযুক্তি জায়ান্টদের ইউক্রেনীয়দের রক্তের বিনিময়ে ব্যবসার অভিযোগ
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে একটি সূত্র ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি আনাদোলুকে জানিয়েছেন যে, তেল আবিব যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকদের কাছে এ ধরনের কোনো অনুরোধ জানায়নি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তিনি এটিকে ‘ভুল’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, পুরো আলোচনা প্রক্রিয়া জুড়ে ওয়াশিংটন ইসরায়েলসহ আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখেছে।
চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা স্মারকের প্রতিটি শব্দ নিজেরা পর্যালোচনা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে নথিটির বিষয়বস্তু কবে প্রকাশ করা হবে, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান, কোন পক্ষই সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেনি। তবে ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এতে মোট ১৪টি ধারা রয়েছে।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ই-কমার্সে রিমার্কের শক্ত অবস্থান, বিশ্ববাজারে যাচ্ছে হাজারো পণ্য
প্রকাশিত বিভন্ন প্রতিবেদনের দাবি অনুসারে, এসব ধারার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনার প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের উপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরান পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি সই হবে এবং এরপর হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। যদিও সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত শর্তাবলী সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন