বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:৩০ এম
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ রেমিট্যান্স ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে। আগের অর্থবছরের ১২ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আজ বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বেশি রেমিট্যান্স এক অর্থবছরে আগে কখনো আসেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মন্তব্য অনুযায়ী, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুযোগ অনেকাংশে প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেল ব্যবহারের উৎসাহিত করেছে। ফলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, অর্থবছরের শেষ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ভাটা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জুনে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। একই সঙ্গে আগের বছরের জুন মাসের তুলনায়ও রেমিট্যান্স কিছুটা কমেছে। তবে ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য প্রাথমিক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তাই চূড়ান্ত হিসাবে এ অঙ্ক কিছুটা বাড়তে পারে। এর পূর্বে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের অক্টোবরে, তখন রেমিট্যান্স আসে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ২ দশমিক ৮০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৮২৩ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে জুন মাসে রেমিট্যান্সে ০ দশমিক ৬ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
এদিকে, ৩০ জুন একদিনে দেশে ১২ কোটি (১২০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। কিন্তু এটি একটি সাময়িক (প্রভিশনাল) হিসাব। ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের চিত্রে দেখা যায়, জুলাইয়ে এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, মে মাসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং জুনে ২৮০ কোটি ৬ লাখ ডলার।
উল্লেখ্য, গত মে মাসজুড়ে দেশে ২৯৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা। যা ইতিহাসে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।
এর আগে, সর্বশেষ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামে। তারপর ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ পতনের সময় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়নে নেমে যায়। গত ১৪ জুন এডিবির ১০০ কোটি ডলার ঋণ যোগ হওয়ার পর ৩১ বিলিয়নের ঘর ছাড়িয়েছিল। আইএমএফের ঋণের শর্ত মেনে ২০২৩ সালের জুন থেকে বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ হিসেবে ওই সময় রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।
দেশের ইতিহাসে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে। তবে অর্থপাচার বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে সেখান থেকে দ্রুত কমতে থাকে। একই সঙ্গে ওই সময়ে ৮৪ টাকা থেকে প্রতি ডলারের দর বেড়ে উঠে যায় ১২০ টাকায়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ কমে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নামে।
২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ রয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট ৩৫ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৫৩০ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছর রেমিট্যান্স বেড়েছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদী রায়পুরায় সেলিম মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি পুলিশ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে স্থানীয়রা। বুধবার (০১ জুলাই) বিকেলে রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ ফেরিঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
আসামি সেলিম মিয়া (৪৫) রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ গ্রামের মৃত তায়েব উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, বাড়ি পুড়ানো, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মারামারিসহ নানা অভিযোগে এক ডজন মামলা ছিল। বিকেলে শ্রীনগর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে পুলিশ সেলিম মিয়াকে নিয়ে গাড়িতে থানার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পুলিশ যখন সায়দাবাদ ফেরিঘাটে পৌঁছায়, তখন স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে তার কাছ থেকে আসামি সেলিমকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনার সময় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়।
এদিকে, রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন নুসরাত জাহান নিপা জানান, বিকেলে আব্দুল আলিম নামক একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়ে এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তিনি বলেছেন যে, আসামিকে ধরতে গিয়ে আহত হয়েছেন। আসামি তাকে ইট দিয়ে ডান হাতের শোল্ডার জয়েন্টের একটু নিচে আঘাত করে। তাকে এক্স-রে করতে দেওয়া হয়েছে, পরে বিস্তারিত বলা যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, সেলিমের বিরুদ্ধে একটি হত্যাসহ তিনটি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ সায়দাবাদ এলাকায় গেলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়। স্থানীয় লোকজনের ভিড়ের মধ্যে আসামি সেলিম মিয়াকে গ্রেফতারের আগেই তিনি পালিয়ে যান। এই সময় কোনো পুলিশ সদস্য আহত হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লোকসান কমাতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে ১১টি ট্রেন বেসরকারিকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বেশির ভাগ আন্তঃনগর ও লোকাল মেইল ট্রেনগুলো আয়ের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেকও আয় করতে পারছে না। বরং দিনে দিনে শুধুই লোকসান গুনছে। এর পাশাপাশি, টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকার বেশির ভাগ ট্রেনের দায়িত্বরতদের পকেটে চলে যাচ্ছে। যদিও পশ্চিমাঞ্চল থেকে চলাচলকারী ৬৮টি ট্রেনের মধ্যে কোনোমতে লাভের মুখ দেখছে ১২টি ট্রেন। আর অন্য ট্রেনগুলোর আয় পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় কম। এমন অবস্থায়, আরো ১১টি ট্রেন বেসরকারীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মাত্র ১২টি ট্রেন লাভজনক অবস্থায় রয়েছে। যাত্রীর চাহিদা বেশি থাকা ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী-খুলনা রুটে ওই ট্রেনগুলো চলাচল করে। এর মধ্যে পদ্মা, সিল্কসিটি, ধূমকেতু, বনলতা, সাগরদাড়ি ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস উল্লেখযোগ্য। কিন্তু মেইল ও কমিউটার ট্রেনগুলোতে লোকসান গুনতে হচ্ছে দিনের পর দিন। মূলত স্বল্প ভাড়া ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে বেশির ভাগ ট্রেন লোকসানে চলছে। জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, জনবল ও অবকাঠামোগত ব্যয় বেড়ে যাওয়াতে নষ্ট হচ্ছে অনেক ট্রেনের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য।
সূত্র জানায়, লোকসানে ট্রেন চললেও আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের স্বার্থে সেগুলো চালু রাখা হচ্ছে। কারণ রেলওয়ে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি জনসেবামূলক পরিবহনব্যবস্থাও। বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আওতায় মোট ৬৮টি ট্রেন চলাচল করছে। এর মধ্যে ৩২টি আন্তঃজেলা ও ৩০টি আন্তঃনগর ট্রেন রয়েছে। আন্তঃনগর ট্রেনগুলো পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে চলাচল করে। আর আন্তঃজেলা ট্রেনগুলো পশ্চিমাঞ্চল-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে চলাচল করে। তাছাড়া ৬টি আন্তঃনগর কমিউটার ট্রেনও রয়েছে। কিন্তু চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত পশ্চিমাঞ্চল রেলের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৮২৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ধরা হলেও এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৫৬৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা আয় হয়েছে। বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ১৫৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। কিন্তু সেখানে ৬২১ কোটি ৩১ লাখ টাকা আয় হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে ট্রেনে যাত্রী ও মালপত্র পরিবহন থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছিল এক হাজার ৩৭৭ কোটি পাঁচ লাখ টাকা, কিন্তু আয় হয়েছে ৬৪৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
সূত্র আরো জানায়, পশ্চিমাঞ্চলের মেইল ও লোকাল ট্রেনগুলোতে বিপুলসংখ্যক যাত্রী উঠলেও তাদের বেশির ভাগই টিকিট কাটে না। আবার টিকিট চেক করার জন্য ট্রেনে যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়, তাঁরা যাত্রীদের কাছ থেকে যে টাকা আদায় করে, সেই টাকাও পুরোপুরি জমা দেয় না। এর ফলে দিনের পর দিন ওই ট্রেনগুলো লোকসান গুনছে। আর এই লোকসান কমাতে, ওই ট্রেনগুলোর মধ্যে আরো ১১টি ট্রেন বেসরকারি খাতে ইজারা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া আন্তঃনগর ও আন্তঃজেলা ট্রেনেও বিপুল পরিমাণ যাত্রী প্রতিদিন টিকিটবিহীন যাতায়াত করছে। সেখান থেকেও আয়ের একটি অংশ টিকিট চেকারদের পকেটে চলে যায়। ফলে কোনো কোনো বছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও আয় হচ্ছে না।
এদিকে, এই প্রসঙ্গে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আনসার আলী জানান, “টিকিট থেকে রেলওয়ে পর্যাপ্ত আয় করতে পারছে না।” বিশেষ করে লোকাল ও মেইল ট্রেনগুলোতে যাত্রীরা টিকিট কাটতেই চায় না। ফলে আরো ১১টি ট্রেন বেসরকারীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের বকশীগঞ্জে একটি গণধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য না দেয়ার কারণে মামলার সাক্ষী ডা. সানজিদা ইসলামকে জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করেছে আদালত। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরের সময় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই আদেশ দেন। চিকিৎসক সানজিদা ইসলাম বর্তমানে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, একটি গণধর্ষণ মামলায় ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করে মেডিকেল সার্টিফিকেট দাখিল করেছিলেন ডা. সানজিদা ইসলাম। পরে আদালত এই মামলার জন্য সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ডা. সানজিদা ইসলামকে বারবার তলব করে। কিন্তু তিনি আদালতে কখনো আসেননি। গত ২৯ জুন আদালত ওই চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। সেই নোটিশে তাকে ০১ জুলাই আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসক এই নির্দেশ পালন করেননি। ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ৪৮৫ ধারার বিধান অনুযায়ী আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে দুই শত পঞ্চাশ টাকা জরিমানা করা হয় এবং সেই জরিমানার টাকা পরিশোধের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। জরিমানার টাকা না দেয়ার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৭ ধারার ভিত্তিতে আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে। আদালতের সরকারের পক্ষের আইনজীবী (পিপি) আইনজীবী ফজলুল হক জানান, 'সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির না হওয়ায় চিকিৎসককে ২৫০ টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত। কিন্তু নির্ধারিত অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনীর পরশুরামে মো. মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল (২২) নামে এক যুবক অসাবধানতাবশত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করার পর তাকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত নিয়ে এসেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে বিলোনিয়া স্থলবন্দরসংলগ্ন চেকপোস্টে বাংলাদেশী বিজিবি ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যদের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রুবেল পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের পশ্চিম রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুবেল বেশ কিছুদিন প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে আসার পর থেকেই তিনি মানসিক সমস্যা ভুগছিলেন।
পরিবার ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে রুবেল সবার অজান্তে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে পথ হারিয়ে অসাবধানতাবশত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। ভারতে ঈশানচন্দ্রনগর এলাকার স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে ৪৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মন্ডুবস্তি ক্যাম্পের টহলরত সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন।
এদিকে রুবেলকে খুঁজে না পেয়ে তার নানা জয়নাল আবেদীন মজুমদার পরশুরাম মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। বিষয়টি জানার পর বিজিবি ও বিএসএফের সঙ্গে অধিনায়ক পর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটক বাংলাদেশি নাগরিককে বিজিবির কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে বিএসএফ সম্মতি দেয়।
বিজিবি জানায়, বুধবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) মজুমদারহাট বিওপির কোম্পানি কমান্ডার এবং প্রতিপক্ষ ৪৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বিলোনিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডারের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিএসএফ রুবেলকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রুবেলকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে তার পরিবার বিজিবি, পরশুরাম মডেল থানা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
এ ব্যাপারে ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, বিজিবি ও বিএসএফের অধিনায়ক পর্যায়ে ফলপ্রসূ আলোচনার পর বিলোনিয়া সীমান্তে পতাকা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিএসএফ বাংলাদেশি নাগরিককে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ